রুপগঞ্জে আ’লীগের দুইগ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১॥ পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত শতাধিক

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে একই স্থানে অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংষর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুইগ্রুপের সংঘর্ষে সুমন নামে একজন নিহত হয় ও গিুলিবিদ্ধ ১৫ জনসহ আহত হয় শতাধিক।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রুপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন সেতুর পশ্চিমপাশে হাবিবনগর এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে অন্তত ৫‘শ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় পুলিশ-সাংবাদিক ও উভয়পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ উভয় পক্ষের ৩৯ নেতাকর্মীকে আটক করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামালায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কোন নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা রূপগঞ্জের ৩০০ ফিট সড়কে অবস্থান নেয়। কিন্তু দলীয় কোন্দলের জের ধরে তারা নিজেদের মধ্যে শক্তি প্রদর্শনে লিপ্ত হয়ে উঠে।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরাতে চেষ্টা করে। জানা যায়, বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভুঁইয়ার কর্মী সমর্থকরা কাঞ্চন সেতুর পশ্চিমাংশের ৩০০ ফিট সড়কের পুলিশ বক্সের পাশে অবস্থান নেয়। দুইধারায় বিভক্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের আরেকাংশের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীর প্রতিক) নেতৃত্বে একইস্থানের রাস্তার অন্যপাশে অবস্থান নেয়। এসময় দুইপক্ষই রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দিয়ে শক্তি প্রদর্শন শুরু করলে সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

সংঘাতের আশংকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল ফতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মোঃ তরিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান ও মোঃ রেজোয়ানুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কর্ণপাত না করায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নির্দেশে দুই পক্ষকে রাস্তা থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে লাঠিসোঠা নিয়ে সংর্ঘষে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি অবনতি ঘটলে পুলিশ দুইপক্ষকে ধাওয়া করে লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও গুলি নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় মূর্হুমূহু গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে।

গুলিবিদ্ধ হয় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী কামরুজ্জামান হীরা, ছাত্রলীগ নেতা রিফাত হোসেন, শাকিল আহমেদ টিপু, সুমন মিয়া, যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন জয়, সিয়াম আহমেদ, আমির হোসেন, মহসিন ফকির, হৃদয় আহমেদ, শাকিল, আবুল কালাম, শাহিনুর আক্তার, লিপিসহ ১৫ জন। টিয়ারশেল, কাদানে গ্যাস লাঠিচার্জ ও ইট পাটকেলের আঘাতে আহত হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুাপার (বিশেষ শাখা) ফারুক হোসেনসহ ৩০ পুলিশ, মানবজমিন পত্রিকার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন জয়, প্রথম ভোরের স্টাফ রিপোর্টার দ্বিক বিজয়সহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে শতাধিক নেতাকর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে এমপি পক্ষের সমর্থক গুলিবিদ্ধ সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী সুমন মিয়া (২১) মারা যায়। সে উপজেলার তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকার মনু মিয়ার ছেলে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উভয়পক্ষের ৩৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছেন।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) বলেন, আওয়ামীলীগের বিচ্ছিন্ন একটি পক্ষ বিএনপি নয়, আমাকে আর রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগকে ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন। আমরা কোনঠাসা হয়ে গেলে তারা নিরিহ কৃষকদের জমি জোর করতে পারবে সে লক্ষ্যেই আজ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের কর্মসূচি ভন্ডুল করতে ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। রফিক চেয়ারম্যানের গানম্যানের গুলিতে তার পক্ষের সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী সুমন মারা গেছে দাবী করে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং খুনীদের শাস্তি দাবি করেন। অপরদিকে আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আমি কর্মসূচিতে উপস্থিতই ছিলাম না। তাহলে সেখানে আমার গানম্যান থাকবে কি করে? গাজী অপহিংসা, এক নায়কতন্ত্র আর সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ^াস রাখে। উপজেলা আওয়ামীলীগকে ঐক্যবদ্ধ দেখে সে নিজেই হয়তো খুনের ঘটনা ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি সুমনের খুনীদের শাস্তি দাবি করছি।

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইস হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্র“প একই স্থানে অবস্থান নিয়ে আধিপত্য বিস্তার ও শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ ও সটগানের গুলি, রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে একজন নিহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৪৬৯ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৭০ রাউন্ড শটগানের গুলি এবং ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.