ফতুল্লাবাসীর আতষ্কের নাম প্লাস সাফি তাজুলের সিভিলটিম!

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির নামে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের স্পেশাল-২৩ নামক সিভিল টিমের কর্মকা-ে খোদ ক্ষুব্ধ পুলিশই। সিভিল টিম নামে সাদা পোশাকের এটিমের ইনচার্জ এস আই সাফিউল আলম ও এ এস আই তাজুল ইসলামসহ তার সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। গোয়েন্দা নজরদারির নামে পুলিশের এ টিমটি এখন অনেকের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সাধারণ মানুষকে নানারকম ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আসছে একের পর এক। এতে অস্বস্তিতে পড়েছেন খোদ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সুনিদিষ্ট প্রমান পাওয়া মাত্রই বিতর্কিত দারোগা সাফিউল আলম ও সহকারী দারোগা তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের গঠিত দুটি সিভিল টিমের মধ্যে এস আই সাফিউল আলম এ এস আই তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত পুলিশের এ সিভিল টিমের বিরুদ্ধে সবসময়ই নানা অপকর্মের অসংখ্য অভিযোগ উঠে আসছে। অভিযানের নামে আটক করে চাঁদাবাজি করাই মূল লক্ষ্য হলো সিভিল টিমের। চাহিদা মতো অর্থ দিতে না পারলেই চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। প্লাসের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্নস্থান চাপ প্রয়োগ করে চালানো হয় নির্যাতন। নির্যাতন করা হলে গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তি যাতে করে চিৎকার দিতে না পারে এজন্য মুখের ভিতর কাপড় ডুকিয়ে দিয়ে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। এ সিভিলটিমের নির্যাতনের স্বীকার অনেকেই এখন দুর্বিসহ জীবন যাপন পার করছে। এছাড়া পেন্ডিং মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় সিভিল এ টিমের সদস্যরা। এমনকি নিজেদের কাছে থাকা মাদকদ্রব্যও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উদ্ধার দেখানোর নামে আদায় করা হয় অর্থ। একজন সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে গঠিত একটি সিভিল টিমে একজন এএসআই ও অন্তত ৩ জন কনস্টেবল রাখা হয়। সর্বদা সঙ্গে থাকে একাধিক সোর্স। পুলিশের ওয়াকিটকির কলসাইনে এই টিমের সদস্যরা বিশেষ বাহিনী নামেই সর্বাধিক পরিচিত। নিজ ভাড়াকৃত মাইক্রোবাসে করে ঘুরেন তারা। দিনের চাইতে রাতে বেশি দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সিভিল টিমের কাজই হলো সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজার বা মোড় এলাকায় মাইক্রোবাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। কোন পথচারী বা গভীর রাতে ঘরে ফেরা কাউকে পেলেই সিভিল টিমের সদস্যরা তাকে আটক করে প্রথমে জেরা করেন। একপর্যায়ে মিথ্যে অভিযোগে তাকে গাড়িতে উঠিয়ে ঘোরাতে থাকেন সাথে থাকা নগদ অর্থও রেখে দেয়া হয়। এরপর আটককৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘সমঝোতা’ হলে রাস্তা থেকেই তাকে ছেড়ে দেয়। দাবিকৃত অর্থ পাওয়া না গেলে পেন্ডিং মামলা বা মাদক উদ্ধার দেখিয়ে চালান করা হয় আদালতে। যদিও বেশির ভাগই অর্থের বিনিময়ে ছাড়া পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েকদিন আগেও ৫০০ পিচ ইয়াবাসহ মাদকের ডন মিজান এবং সহযোগী নূরা নামের দুই ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিভিল টিমের এস আই সাফিউল আলম ও এ এস আই তাজুল ইসলাম। ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাদকের ডন মিজানকে ছেড়ে দেয়া হলেও সেলসম্যান নূরাকে মাদক মামলার মাধ্যমে আদালতে প্রেরন করা হয়। প্রতিদিন কোন কোন ভাবে একাধিক মাদক ব্যকসায়ীকে গ্রেপ্তার করলেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। আর দাবিকৃত অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হলে মামলায় জড়িয়ে আদালতে চালান করা হয়। এদিকে অভিযোগ রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও এদের রয়েছে সখ্য। সোর্সের মাধ্যমে মাদকের স্পটের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে থাকেন সিভিল টিমের সদস্যরা। মাদক ব্যবসায়ীকে আটক না করে মাদকাসক্তদের আটক করাই তাদের থাকে মূল লক্ষ্য। একটু সচ্ছল পরিবারের কেউ হলে তো কথাই নেই। মামলা-রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় লাখ টাকা। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই নিরপরাধ লোকজনকে ধরে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেই চলছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাদা পোশাকে অপরাধীদের ধরতে তুলনামূলক সহজ বলে থানায় থানায় সিভিল টিম গঠন করা হয়। তবে অপরাধী ধরার চাইতে অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে দোষী পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে বিতর্কিত এ টিমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে রহস্যজনক কারনে নীরব।

অপরদিকে উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফতুল্লা মডেল থানার স্পেশাল ২৩ নামক সিভিল টিমের ইনচার্জ সাফিউল আলম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এবং তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপনার কাছে আমি জবাব দিহি করবো কেন। আপনি কে আমাকে এ বিষয়ে জানতে চান। এমনকি এ ঘটনায় কোন ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি দম্ভোক্তি করেন।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, সিভিল টিমের দায়িত্বে থাকা এস আই সাফিউল আলম এবং এ এস আই তাজুল ইসলাম কোন ধরনের অপকর্ম করে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন জানান, বিষয়টি খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply