আওয়ামীলীগের এক সংগ্রামী পথিকের নাম শাহ নিজাম!

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

আজকের এক সংগ্রামী নেতার আন্দোলন আগামী দিনের এক ত্যাগী নেতার ইতিহাস। অতিতে আওয়ামীলীগের কালজয়ী দুঃসময়ে যারা আন্দোলন ও সংগ্রামে দুরন্ত পথিকের মত ঝাপিয়ে পরেছিল তারাই আজ দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। রয়ে যায় ইতিহাস ভবিষ্যৎ বলে তার কথা। তেমনই আওয়ামীলীগের এক সংগ্রামী পথিকের নাম শাহ নিজাম। যিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিগত ২০০১ সালে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসার পর কোনঠাসা হয়ে পরে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সহ অঙ্গ সংগঠন। দলের দুঃসময়ে রাজপথ ছাড়েনি শাহ নিজাম। জনগনের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের ডাক দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ডাকে সারা দিয়ে ঢাকায় দলীয় ও জাতীয় সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন এই নেতা। ওইসময় বর্তমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ও তার দিক নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সু-সংগঠিত করে ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত করেন শাহ নিজাম। তার নেতৃ্ত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার সকল কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখতো সেইসময়।

স্কুল জীবন থেকেই রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় নিজামের। ১৯৮৫ সালে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন জেলা ছাত্রলীগের সর্বকনিষ্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ছিল (সু-র)। সেখান থেকেই শুরু হয় তার ছাত্র রাজনীতি। ১৯৮৬ সালে এসএসসি পাশ করার পর তোলারাম কলেজে এইচএসসি তে ভর্তি হয় নিজাম। সহযোদ্ধাদের অনুরোধে তোলারাম কলেজ সংসদ নির্বাচনে সমাজকল্যান সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন তিনি। দলীয় সকল কর্মসূচিতে ভূমিকা ও তার মেধা দেখে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন ছাত্রলীগের তৃনমূল। এরপর ১৯৮৮ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন এই শাহ্ নিজাম।

ছাত্রজীবনে শুধু রাজনীতিতে নয় এক সময় তুখোড় ক্রিকেটার হিসেবেও নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় বিভিন্ন ক্লাবে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এই নেতা। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে গড়ে তুলেছেন বায়ান্ন নামে একটি ব্যান্ড। ‘এ কেমন বর্বরতা’ নামে একটি গান তার লেখা ও পরিকল্পনায় রচিত হয়। সম্প্রতি বিএনপি-জামাত জোটের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের বিরুদ্ধে সেই গানটি বিটিভিতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঞ্চালনায় পরিবেশন হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘ধন্য পিতা’ নামে আরেকটি গান পরিবেশন করেন। এই গানটি ইউটিউবে ব্যাপক ঝড় তুলে।

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জে ইতিহাস করে রাখতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এর মাথায় ‘ধন্য পিতার ধন্য মেয়ে’ নামে একটি স্থাপনা তৈরি করেন তিনি। বর্তমানে এই স্থাপনাটি আজকের নারায়ণগঞ্জকে ভিন্নভাবে বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করিয়েছে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সাইন বোর্ড এলাকাটি ‘ধন্য পিতার ধন্য মেয়ে’র স্থাপনা হিসেবে পরিচিত লাভ করতে শুরু করেছে।

এত ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেন তিনি। ১৯৯৪ সালে টেকনো প্রিন্টার্স নামে একটি প্রিন্টিং ব্যবসা করেন নিজাম। এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজনীতি আর ব্যবসা তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

শাহ নিজাম সব সময় স্বপ্ন দেখতেন ভিন্ন কিছু করার। ভাবতেন জনগনের দুঃখ কস্টের কথা। একসময় খান সাহেব ওসমান আলী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পূর্বপাশে ছিল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। যার দুর্গন্ধে মানুষের চলাচল করতে উঠতো দীর্ঘ নাভিশ্বাস। এছাড়া সেখান ঘটতো ছিনতাই, হত্যা ও ধর্ষণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। জনগনের কস্ট লাঘোবে স্বপ্ন দেখেন ময়লা স্তূপে ফুল ফোটানোর। তারই ধারবাহিকতায় দীর্ঘ ১৬ মাসের কঠোর পরিশ্রমে সেই জায়গার চেহারা পাল্টে দিয়েছেন শাহ নিজাম। ময়লার-আবর্জনার স্তুপে গড়ে তোলেন একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন পার্ক। বর্তমানে সেই দুর্গন্ধ ও অপরাধের জায়গা এখন নিরাপদ বিনোদন পার্কে পরিনত। যা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছে।

এত আত্মত্যাগ ও সফলতার পরেও বিতর্কতা যেন তার পিছু ছাড়ছে না। তার প্রশাংসায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সমালোচনা করতে উঠে পরে লেগেছে কিছু স্বার্থনেশ্বী মহল। সম্প্রতি হকার ইস্যু নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে তাকে অপপ্রচার করতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে তারা। ঘটনার দিন আরো অনেকেই অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন। তাদের নিয়ে কারো কোন আলোচনা নেই। একজন সংগ্রামী ও ত্যাগী নেতার নামে এভাবে অপপ্রচারকে দু:খজনক বলে জানান নারায়ণঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার বিবরণে, সেদিন শান্তিপূর্নভাবে নগর ভবন থেকে পায়ে হেটে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রেস ক্লাবে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি যখন নগর ভবন থেকে পায়ে হেটে সায়েম প্লাজার সামনে আসেন কিছু অতি উৎসাহী তৃতীয় শক্তি মেয়র আইভীকে প্রেস ক্লাব মুখী না করে সায়াম প্লাজার সামনের রাস্তায় এগিয়ে নিয়ে যায়। যার আরেকটি কারন বাম নেতা হাফিজ সেদিন প্রেসক্লাবের রাস্তা বন্ধ করে গার্মেন্টস শ্রকিকের সভা দীর্ঘায়িত করেছিলেন? যার কারণে মেয়র পথ পরিবর্তন করে উল্টো পথে হেঁটে আসতে হয়েছে। এমন সময় যখন মেয়র আইভীর সমর্থকরা ফুটপাতে বসা হকারদের জিনিষ পত্র ভাংচুর শুরু করে। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে যখন সামনে এগিয়ে আসতে থাকে তখন পথের মধ্যে যুবলীগ নেতা নিয়াজুল রাস্তার উপর দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। এ সময় নিয়াজুলকে দেখে তার উপর হামলা করে ও এলোপাতারি মারধর শুরু করে আইভীর সমর্থকরা। নিয়াজুল তখন অস্ত্র প্রর্দশন করেন। তাকে বাঁচাতে ছুটে আসে নেতাকর্মীরা। তাদেরও উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে আইভীর সমর্থকরা। চারদিকে শুরু হয় ধাওয়া প্লাটা ধাওয়া। এসময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এদিকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং মহানগর কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম। ঘটনার দিন তার দায়িত্ব ছিলো যে কোন কিছুর বিনিময়ে পরিবেশ শান্ত রাখা। অতি উৎসাহী তৃতীয় শক্তি যেন কোন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে। গুলির শব্দ শুনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে শাহ্ নিজাম নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল উচিয়ে প্রদর্শন করেন। যার আরেকটি কারন হল নিজেকে আত্মরক্ষা করা। এদিকে তৃতীয় শক্তির উসকানিতে তাদের লোকজন যাতে কোন বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে না পরে তার জন্য তিনি লাঠি হাতে আটকানোর চেষ্টা করেন। এদিকে কিছু মানুষ তার অস্ত্রের ছবি দিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে শাহ্ নিজামের ইমেজ ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। তবে সেদিন যে ঘটনা ঘটেছে, ওই সময় এই সাহসী তরুন নেতা যদি জীবনবাজি রেখে এমন ঝুঁকি না নিতেন, তাহলে হয়তো ঘটনা অন্য রকমও ঘটতে পারতো। যা হতো আরো মর্মান্তিক এমনটি জানালেন ঘটনার দিন উপস্থিত আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মেয়র আইভী ওইদিন যদি প্রেসক্লাবে যেতেন তাহলে হয়তো এমন রনক্ষেত্রে সৃষ্টি হতো না। সেদিন মেয়রকে যারা এই পথে এনে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিলেন, ঘটনার সময় কিন্তু তাদের আর দেখা যায়নি। তাহলে কি অন্য কোন উদ্দেশ্যে মেয়রকে পথ পরিবর্তন করানো হয়েছিলো?

1.46K Shares

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.