এখনো নারীরা সমাজে অবহেলিত ও নির্যাতনের শিকার!!

0

রনজিৎ মোদক,বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নারী পুরুষ সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা যেকোনো সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারীরা পদে পদে নির্যাতিত ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। যে সমাজের পুরুষেরা নারীদের সম্মান দেন, সেই সমাজের পুরুষেরাও নারীদের কাছ থেকে অধিক সম্মান পেয়ে থাকেন। সুসভ্য সমাজ ব্যবস্থার পরিচয়ে আমরা অনেকেই মুখে মুখে নারীর সমঅধিকার দিয়ে আসছি। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দূর্ভাগ্যবশত আমাদের সমাজে কণ্যা শিশুরাই পারিবারিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা অবহেলা বঞ্চনা আর বহুবিধ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কণ্যা শিশু দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ কোটি সাড়ে ৭ লাখ নারী। কিন্তু সংখ্যা অনুসারে তাদের নিরাপত্তা বিধানে আমরা কতটুকু উদ্যোগী হতে পেরেছি এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ছোট বেলায় স্কুল জীবনে গ্রামোফোন হিজ মাষ্টার রেকর্ডে নির্মলেন্দু লাহেড়ী অভিনীত সিরাজদ্দৌলা নাটক শুনেছি। তাতে এক স্থানে নবাব সিরাজের বক্তব্যে বলা হয়েছে,“প্রথম যৌবনের উন্মাদনায় চেয়েছিনু নারী, তখন তাকে দেখেছি ভোগের সামগ্রীর মতো……..রাজ্য যা দিতে পারেনা, পরিক্রম যা দিতে পারেনা, তাই, তাই আজ আমি চাই নারীর কাছে”। ¯েœহময়ী, করুণাময়ী, মমতাময়ী নারীর সে রূপকে আমরা কতটুকু কাজ থেকে দেখি? এসমাজে নারী পুরুষের অবদান অস্বীকার করার কোন পথ নেই। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় লিখেছেন, “বিশ্বের যা চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার করিয়াছে নর।” মা কথাটি তাইতো মমতা দিয়ে জড়ানো। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) মাকে উচ্চ আসনে স্থান দিয়েছেন এবং মাতৃ জাতির সমঅধিকার ঘোষনা করেছেন।

হাইস্কুল জীবনে ১০ম শ্রেনীতে থাকা অবস্থায় আমি আমার বাংলা শিক্ষক মতি লাল সাহা’কে প্রশ্ন করেছিলাম, স্যার নবাব সিরাজদ্দৌলার উল্লেখিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে আরো বড় হয়ে বিষয়টি জানার জন্য উপদেশ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তুমি বড় হলে নিজেই জানবে এবং বুঝতে পারবে। আজ মাতৃহীন সংসারে মা হারা সন্তান কতটা ¯েœহ-আদরের অভাবে তার নিজের কণ্যা সন্তান’কে মা বলে ডেকে মায়ের অভাব পূরণ করার চেষ্টা করে। এমনকি কণ্যা সন্তানের সমবয়সী মেয়েদের মধ্যে অনেকেই তার প্রিয় মা’কে খুঁজে বেড়ান।

যে কণ্যা সন্তানটি জন্মের পর পুতুল খেলার ছলে সংসার গড়ার স্বপ্নে মেতে উঠে, তাকে তো কোনোমতেই ছোট হিসেবে দেখা ঠিক নয়। হাজার বছরের নির্যাতনের বেড়াজাল থেকে সংগ্রাম করতে করতে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে নারী জাতি।

ভৌগলিক সীমানায় চোঁখ রাখলে প্রীতিলতা, বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, নুরজাহান বেগম, জাহানার ইমাম ও আরো নাম না জানা অসংখ্য সংগ্রামী নারীদের সংগ্রামে আজ ইতিহাসের পাতা প্রস্ফুটিত। রাষ্ট্রীয় আসনের দিকে তাকালে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। জাতি সংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম নারী সভাপতি বিজয় লক্ষ্মী পন্ডিত, রাজনীতি উনিশ শতকের প্রথম বাঙ্গালী নারী প্রতিনিধি স্বর্ণকুমারী দেবী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভূট্টোসহ আরো অনেকেই নারী সম্প্রদায়ের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন।

বর্তমান গনমাধ্যমগুলো নারী-শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোরালো ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। ফলে স্কুল কলেজ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তারপরেও একশ্রেনীর জ্ঞানপাপীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে কণ্যা শিশুরা। সামান্য অর্থের লালসায় ১৩/১৪ বছরের শিশু কণ্যাদের ১৮/২০ বছর বয়স দেখিয়ে কাজী অফিস বা সাজনা তলায় আইনের বেড়াজালে জবাই করা হচ্ছে। এতে কণ্যা শিশুরা অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। স্বাস্থ্যহানী ঘটছে শিশু মাতাদের। শিশু কণ্যা সন্তানদের অধিকার রক্ষায় বর্তমান বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন।
নারীদের প্রতি সরকারের ব্যাপক আইন করার পরেও এখন প্রতিদিন নারীরা ধর্ষণ ও যৌননির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরো অধিক তৎপর হতে হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। নারী ও কণ্যাশিশুদের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত হউক। এ আমাদের প্রত্যাশা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.