আমাদের পথ চলা … (হকার সমস্যা)

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

ফিরে দেখাঃ ২০১৬ ইং এপ্রিলের ৪ তারিখ নাঃগঞ্জ শহরের দেওভোগ পাক্কারোডে ঋনের টাকা শোধ করতে না পারার দুঃশ্চিন্তায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক আক্তার হোসেন নামে ৩৮ বছরের একজন মানুষ। তার পৈতৃক নিবাস ছিলো মুন্সিগঞ্জের লৌহজং।

প্রসংঙ্গ হকার সমস্যাঃ নাঃগঞ্জ শহরের ফুটপাত থেকে বিনা নোটিশে হকার উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষ অভিযোগের সকল তীর সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের দিকে। আলোচনা সাপেক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ে পুর্নবাসন শর্তে শামীম ওসমান ঘোষিত সময়ে ফুতপাতে হকার্সদের বসা নিয়ে মেয়র আইভির উপস্হিতিতে আইভি অনুগতদের সাথে হকারদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে চলছে আলোচনা অজোপাড়া গায়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে স্বাবলম্বিদের স্কাইপে ভাইবারে। নাঃগঞ্জের রাস্তায় আনুমানিক হকার রয়েছে ৫০০০ এর মত, সংখ্যা পড়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ৫ এর সাথে লেখায় হাজার যোগ না করে তিনটি শূন্য ব্যবহার করেছি। ৫হাজার হকারের পরিবারের সদস্য রয়েছে প্রায় ২৫০০০ মানুষ, এখানেও আমি জন না লিখে মানুষ লিখেছি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবার জন্য। অবশ্য মানুষই মানুষকে নিয়ে ভাবতে পারে, কারন মানুষ কুকুর, বিড়াল, শিয়াল নিয়ে ভাবতে পারে। অমানুষ কি নিয়ে ভাবতে পারে তা আমার ভাবনায় এখন উঠাতে চাচ্ছি না।

অতি অল্প পূজির ৫ হাজার এই সকল অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়িকদের পরিবার গুলোর ভরনপোষন তাদেরই উপরই নির্ভরশীল হয়, অনেকটা বাংলা ছবির গরিব নায়কের চরিত্রের মত। মানে চৌধুরি বাড়ির সামনে দাড়ানো আসল ফকিন্নির বাচ্চা যাকে বলে আরকি। এই সকল ফকিন্নির বাচ্চাদের ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নেই। তারা মন চাইলেই লুটের টাকায় বিদেশ ভ্রমন করতে পারে না, মন চাইলেই পাঁচ তারকা খচিত বা চমকিত হোটেলে খাবার খেতে পারে না, মানে এই জন্মে চাইলেও তারা এই টাইপের হোটেলে খাবার খেতে পারবে না। কক্সবাজার গিয়ে দামি হোটেলে উঠে ফূর্তি করতে পারবে না, দামি প্লেটে সাজানো সামদ্রিক মাছ কিংবা অক্টোপাস খেয়ে দেখতে পারবে না। খেতে হলে রাস্তার পাশে দাড়ানো কোন হকারের কাছ থেকে প্রথম আলো কিংবা ভিন্ন কোন কাগজ পত্রিকার পুরানো কোন সংখ্যার বাতিল পাতা বা কাগজে মুড়ে খেতে হবে, খাওয়া শেষে সেই কাগজের পাতা দিয়ে হাত মুছে ফেলে দিবে কারন টিস্যু কিনতেও টাকা লাগে।

গত মাসে পরিচিত এক হকারের সাথে কথা হয়েছিলো তাও অনেক দিন পর। তার মায়ের ক্যান্সার হয়েছিলো, প্রায় দেড় যুগে যা কামিয়ে ছিলো তা তার সংসার আর মায়ের চিকিৎসায় ব্যয় করে দিয়েছে। তার মা মারা যাওয়ার পর সে তার স্ত্রী ও সন্তানকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে, খরচা কমাতে। কারন তার হাতে টাকা নাই, ব্যবসার অবস্থা ভালো নাই তার উপর মরার উপর খড়ার ঘা হিসেবে মাথার উপর বিশাল ঋনের বোঝা। স্ত্রী, সন্তানের ভরন পোষন সাথে বাড়ি ভাড়া। এই কথা গুলো বলে আসলে আমি ফকিন্নির বাচ্চাদের সম্পর্কে একটু ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

আমি হকার মুক্ত ফুটপাত দিয়ে হাটতে চাই, এটা শুধুই যৌক্তিক দাবি নয় এটা আমার নাগরিক অধিকার। শহরে এই সকল হকার্স একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। এই সকল হকারদের কাছে সকল বিত্তের মানুষই ক্রেতা হিসেবে দাড়িয়ে যায় সস্তা মূল্যের কারনে, ক্রেতার সংখ্যা কত সেটা ভাবার মত আমার অংক জ্ঞান নাই অংকে কাঁচা বলে।

বর্বর জাতি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে থাকার জায়গা ও খাবার দিয়েছেন মানবতার মা শেখ হাসিনা, সারা বিশ্বে সভ্য জাতি হিসেবে আমাদের মুখ উজ্জল হয়েছে। পাকিস্তানিদের ব্যপক বদনাম রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে অসভ্য জাতি হিসেবে। সভ্য আর অসভ্যের পার্থক্য বুঝানোর জন্য প্রথমে ত্যাগের উদাহরণ দিলেও অসভ্যের উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের নাম বলার কারনে তাদের লুটেরা অমানুষ মনোভাব আমাদের কল্পনায় নিশ্চয়ই ভেসে উঠেছে।

জীবন বাঁচাতে প্রায় মাস খানেক ধরে ব্যবসায়িকভাবে বিপযস্ত হয়ে ঘরে বসে ব্যবসার চালান বা টাকাকে খাদ্য সামগ্রীতে রুপান্তর করে খেতে থাকা হকাররা আগামী দুই মাস ব্যবসা করতে না পারলে বিভিন্ন সমিতি কিংবা মাল্টিপারপার্স থেকে নেওয়া লোনের টাকা দিতে ঝামেলায় পড়ে, নিজ ও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়লে আমরা কখনোই অপরাধী হবো না। দেনায় জর্জারিত হয়ে আক্তার হোসেনের মত এই হকারদের কেহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলে তার শেষ বিদায় ও খরচে আমাদের কাউকেই কোন টাকা দিতে হবে না।

আমাদের পায়ে হাঁটার জন্য চাই হকার মুক্ত ফুটপাত আর এই হকার মুক্ত ফুটপাতের জন্য আমরা আর কয়েক মাস ছাড় দিতে রাজি না। কারন এটা আমাদের নাগরিক অধিকার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে এই দেশের সকল গরিব মানুষের পাশে দাড়িয়েই আন্দোলন করে এই দেশ উপহার দিয়ে গিয়েছেন এই কথা আমরা যেনো ভূলে না যাই। শামীম ওসমান না থাকলেও অতীতের মত কোন দোকানী ওজনে কম দেওয়া বন্ধ করবে না, তবে টানবাজার পতিতালয় কেহ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। ব্যক্তিগত দন্দ চিরতার্থে রাজনীতির নামে ২৫০০০ মানুষকে ধারালো তরবারির নিচে আনার চিন্তা ত্যাগ করে সকল নেতৃত্ব মিলে মিশে সিদ্ধান্ত নিলে খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে কি? আমি অতীতে অভাবের তাড়নায় এক পরিবারের মহিলা সদস্যকে দেহ বিক্রি করতে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি।

শেখ মিজানুর রহমান সজীব (একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান)

Leave A Reply