সোদিতে নিহত মতিউরের গ্রামের বাড়ি সোনারগাঁয়ে

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

সৌদি আরবে জিজান প্রদেশে সড়ক র্দূঘটনায় নিহত মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চরাঞ্চল নুনেরটেক গ্রামে শোকের মাতম চলছে। নুনেরটেক গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মতিউর রহমান গত ২৩মাস আগে আল ফাহাদ কোম্পানীতে কাজ করতে সৌদি আরবে যায়। অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা করতে সাড়ে সাত লাখ কাটা খরচ করে সে বিদেশ যায় মাত্র মাসিক ৬শত রিয়েলের বেতনে। মতিউর নিজের খানায় কাজ করে দেশে তেমন বেশি টাকা পাঠাতে পারে নাই। গত ৬ জানুয়ারী কাজে যাওয়ার সময় সড়ক র্র্দূঘটনায় সে নিহত হয়। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে মতিউর রহমান সবার ছোট। পরিবারে একমাত্র সেই কাজ করে সংসার চালাত। তার বাবা মোহাম্মদ আলী বৃদ্ধ, তার বড় ভাই রোশন আলীর একটি চোখ নষ্ট। চিকিৎসার অভাবে দুটি চোখই নষ্ট হওয়ার পথে। অপর ভাই কাজ করতে পারেনা বলে তারা জানায়। নিহত অসহায় বাবা-মার দাবি তাদের সন্তানের লাশটি যেন বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় দেশে আনা হয়। অসহায় পরিবারের প্রতি যেন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নয় বাংলাদেশি নিহতের সাথে সোনারগাঁয়ের অসহায় মতিউর রহমান একজন। যার পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি মতিউর। মতিউরকে হারিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবা বাকরুদ্ধ। কিভাবে চলবে তাদের সংসার কে দিবে তাদের ঋণের টাকা।
সরেজমিনে মতিউরেরগ্রামের বাড়ি নুনেরটেক গিয়ে জানা যায়, তার বৃদ্ধ বাবা মোহাম্মদ আলী জানান, আমার এক মাত্র উপার্জনের সম্বল ছিল মতিউর। আমি বৃদ্ধ কোন কাজ কর্ম করতে পারি না। বড় ছেলের চোখ নষ্ট। আমি স্ত্রী সন্তান নাতি পুতি নিয়ে কি করে বাচঁব, আর ঋণের এত গুলো টাকা কি ভাবে দিব। বাড়ির দলিল দিয়ে ব্যাক ব্যাংক থেকে এনেছি সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাভে সুদে এনেছি ৫লাখ টাকা। সবাই টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

গত ৬ জানুয়ারী শনিবার স্থানীয় সময় সকালে সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনা আহত হয়েছেন আরও ২০জন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। গতকাল শনিবার ভোরে দেশটির জিজান প্রদেশের শামতা নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, নরসিংদী সদরের করিমপুর ইউনিয়নের বাউশালি গ্রামের আমীর হুসাইন, সিরাজগঞ্জের দুলাল, টাঙ্গাইলের সাইফুর ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের মতিউর রহমান, নরসিংদী ইমন এবং কিশোরগঞ্জের জসিম। হতাহতেরা সবাই জিজান প্রদেশের আল ফাহাদ কোম্পানির পরিচ্ছন্নকর্মী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কর্মীদের বহনকারী একটি গাড়িকে-সৌদি সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন থেকে তীব্র গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে পরিচ্ছন্নকর্মীদের গাড়িটি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৭জন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে নিহত সবাই বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা। হতাহতরা জিজান থেকে ৫০কিলোমিটার দূরে সামান্তা শহরে কাজ করতে যাচ্ছিল। নিহতদের মরদেহ জিজানের একটি মর্গে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সৌদির একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, দুর্ঘটনাকবলিতরা ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্ন-কর্মী। তারা পিকআপে করে ২৭ জন কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। সামতাহ ও আল-হারেথ এলাকার মাঝামাঝি সড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় পিকআপটির। এতে ওই কর্মীদের বহনকারী গাড়িটি উল্টে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রাদেশিক রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র বেইশি আল-সারখির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, দুর্ঘটনাস্থলে সাত জনের মরদেহ পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। আরও ১৫ জনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থাই ছিল গুরুতর। পরে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়ায় নয়ে।

ফরিদুল ইসলাম নামে এক প্রবাসী ওই ছয় বাংলাদেশির নাম জানান, এরা হলেন– নরসিংদীর আমির হোসেন ও হদয়, নারায়ণগঞ্জের মতিউর রহমান, কিশোরগঞ্জ জসিম, সিরাগঞ্জের দুলাল ও টাঙ্গাইলের সফিকুল।

Leave A Reply