মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের মানব বন্ধন

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

ন্যূনতম মজুরি ১৫০০০ টাকা, কর্মরত শ্রমিকের মৃত্যু হলে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান করা ও শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী শ্রম আইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৪ টা থেকে ৫ টা কাঁচপুর পেট্রোল পাম্পের সামনে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সভাপতি আমানুল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর, রূপগঞ্জ উপজেলার সভাপতি মোঃ সোহেল, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস,এম,কাদির, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার নেতা সাইফুল ইসলাম, ওসমান গনি, মোঃ হারেস, আসমা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেক বেড়েছে, চালের দাম আকাশচুম্বি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলের বেতন দ্বিগুন হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। মজুরি বৃদ্ধির কথা বললে আশুলিয়ায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের পুলিশ হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুণর্গঠন করে মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্মস্থলে শ্রমিকের মৃত্যু হলে শ্রম আইনে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা আছে। যেখানে একটি কোরবানীর গরু ১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয় সেখানে একজন শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ ১ লক্ষ টাকা হতে পারে না। ক্ষতিপূরণ আইনের দুর্বলতা এবং মালিকের কঠোর শাস্তির বিধান না থাকায় কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু দিন দিন বেড়েই চলছে। কর্মস্থলে শ্রমিকের মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হলে শ্রমিকের আজীবন আয়ের সমান ৪৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরণ প্রদান এবং মালিকের কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আই,এল,ও কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করার ৪৫ বছর অতিক্রমের পরও আই,এল,ও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ এর আলোকে শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়নি। ২০০৬ সালে প্রণিত শ্রম আইন দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো প্রত্যাখ্যান করলে বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সালে শ্রম আইনের যে সংশোধনী পাশ করেছে এবং ২০১৫ সালে যে শ্রম বিধিমালা জারি করেছে তাতে শ্রমিকের অধিকার তো প্রতিষ্ঠিত হয়নি তা আরো সংকোচিত হয়েছে। বর্তমানে শ্রম আইন সংশোধনের যে প্রক্রিয়া চলছে তাতে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি। শুনতে পাওয়া যায় মালিকদের ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের স্বার্থ রক্ষা করে শ্রম আইন করা হবে। নেতৃবৃন্দ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩,২৩,২৬,২৭,১৭৯ নং ধারাসহ শ্রম আইনের সকল শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী অগণতান্ত্রিক ধারাসমূহ বাতিল ও আই,এল,ও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ এর আলোকে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি করেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.