র‌্যাবের অভিযানে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আটক

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

র‌্যাব-১১’র অভিযানে জেএমবি’র (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) সক্রিয় সদস্য মুফতি মাওলানা মো: তাওহীদুল ইসলাম ওরফে জুবায়ের ওরফে জুনায়েদ ওরফে আবু সাদ (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার নিকট হতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গীবাদী লিফলেট জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে অবস্থিত র‌্যাব-১১’র সদর দপ্তর থেকে প্রেরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, বুধবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত র‌্যাব-১১’র একটি আভিযানিক দল রাজধানী ঢাকার লালবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তার গ্রামের বাড়ী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানায়। সে জেএমবি’র সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ও একাধিক মামলার পলাতক আসামী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব আরো জানায়, মুফতি মাওলানা মোঃ তাওহীদুল ইসলাম ওরফে জুবায়ের ওরফে জুনায়েদ ওরফে আবু সাদ ২০০৫ সালে ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসা হতে হেফজ পাশ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র পড়ানোর কাজ শুরু করে। এসময় জনৈক শাহজাহান এর মাধ্যমে সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বা হুজিতে যোগ দেয়। হুজিতে থাকা অবস্থায় সে অন্য জঙ্গী সংগঠনের সাথে তার যোগাযোগ তৈরি করে এবং ২০১২ সালে সাজিদ নামের এক জেএমবি সদস্যের সাথে পরিচয়ের সূত্রে সে জেএমবির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে থাকে। পরে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে সম্পূর্ণরূপে হুজি ত্যাগ করে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্র“পে যোগ দেয়। আরবীতে দক্ষতার কারনে তার এক ছাত্রের পরামর্শে ২০১৬ সালের মে মাসে সে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে আরবী শিক্ষার একটি কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে। এই কোচিং সেন্টারে জেএমবির ১২-১৫ জন সদস্য আরবী পড়া ও অর্থ বোঝার প্রশিক্ষণ নিত। রাশেদ নামের অপর এক জেএমবি সদস্য এই বাসাটি ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। এর কিছু দিন পর তাওহীদ জেএমবির শীর্ষস্থানীয় সদস্য ইমরান আহমেদের সান্নিধ্যে আসে এবং ইমরানের বাসায় ইমরান ও তার ছেলেকে আরবী পড়ানোর কাজ শুরু করে। ধীরে ধীরে ইমরান আহমেদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার সূত্রে সে সংগঠনের আর্থিক বিষয়াদিও দেখাশুনা করা শুরু করে। সে ইমরানসহ সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সাজিদের কাছে পৌছে দিত বলে জানায়। পরে ইমরানের পরামর্শে তার কোচিং সেন্টারটি স্থানান্তর করে ইমরানের বাসায় পুনঃস্থাপন করে। সংগঠনের সদস্যদের আরবী শেখানোর পাশাপাশি ইন্টারনেটে প্রাপ্ত উগ্রবাদী মতামত, বিভিন্ন বার্তা ও বইসমূহ সে অনুবাদ করে দিত। এভাবে তাওহীদ জেএমবির সারোয়ার গ্র“পের সদস্যদের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। সর্বশেষ সে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্র“পের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব ও সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছিল।
এ সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে

Leave A Reply