সিপিবি-বাসদ’র হরতালে পুলিশের বাধা

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার আহ্বানে দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল পালনকালে সিপিবি-বাসদ-বাম র্মোচা নারাায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ নারায়ণগঞ্জ শহরে ৬ টা থেকে প্রধান প্রধান সড়কে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টায় ২নং রেলগেইটে সিপিবি-বাসদ-বাম র্মোচা মিছিলে পুলিশ বাধা প্রদান করে । এই সময় মিছিলকারী সিপিবি-বাসদ-বাম র্মোচার নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। জোটের নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল চালিয়ে যায়। বেলা ১১ টায় ২নং রেলগেইটে সিপিবি-বাসদ-বাম র্মোচার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ-মার্কসবাদীর নেতা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, গনসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক তরিকুল সুজন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নারায়নগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক ধীমান সাহা জুয়েল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়নগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক অঞ্জন দাস, বাংলাদেশে ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সজীব শরীফ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক বেলাল হোসাইন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মশিউর রহমান রিচার্ড।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোক্তা সংগঠন ক্যাব, বিভিন্ন বামপন্থি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, জ্বালানি বিশেষজ্ঞসহ সকল মহলের মতামত ও সমস্ত তথ্য, যুক্তি উপেক্ষা করে সরকার এক গোয়েমি করে বিদ্যুতের দাম আবারো বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছে। বর্তমান সরকার তার মেয়াদ কালে এই নিয়ে আট বার বিদ্যুতের দাম বাড়াল। সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি, অপচয়, লুটপাট, ব্যাক্তিমালিকানাধীন বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের মুনাফার জন্য দফায় দফায় বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। গত কয়েক বছরে গণশুনানিতে এ বিষয়ে বহুবার যুক্তি উত্থাপন করা হয়েছে কিন্তু গণশুনানির উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের ইচ্ছার বাস্তবায়নের লোক দেখানো আইনি পদক্ষেপ। এবারও ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানির দেয়া হিসাব এবং প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছিল বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোন যৌক্তিকতা নেই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নয় জনগণের স্বার্থের কথা ভাবলে বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ানো নয় কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বিদ্যুতের কথা যুক্তি ও তথ্য উপাত্ত দিয়ে বারবার দেখানো হয়েছে। রেন্টাল এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরকার গ্যাস সরবরাহ করে এবং তাদের কাছ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনে। রেন্টাল, কুইক রেন্টালে গ্যাস সরবরাহ না করে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ালে প্রায় এক হাজার ৩০১ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। জ্বালানি দামের সমন্বয় করলে ফার্নেস ওয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুই হাজার ১১০ কোটি টাকা এবং ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। ডিজেলভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখে কম খরচের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখলে উৎপাদনে ব্যয় সাশ্রয় হতো ৭৫২ কোটি টাকা। মেঘনা ঘাট আইপিপিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি নীতি পরিবর্তন করলে প্রায় ৭ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা সাশ্রয় করা যায়। জ্বালানির দাম কমার সাথে সমন্বয় করলে ২৬৭২ কোটি টাকা উৎপাদন খরচ কমানো যায় বলে আমরা যে দাবি করেছি গণশুনানিতে বিইআরসি’র সদস্যও তা স্বীকার করে বলেছেন, অতটা নয়, তাদের হিসেবে ১৭০০ কোটি টাকা কমানো যায়। অথচ ৩৫ পয়সা প্রতি ইউনিট দাম বাড়ালে সরকারের বাড়তি আয় হবে ১৮৮৬ কোটি টাকা। আমরা বলেছিলাম, অপচয়-দুর্নীতি ও ভুলনীতির পথ পরিহার করলে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১ টাকা ৫৬ পয়সা কমানো সম্ভব।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ ব্যবসায়ী, এলএনজি ব্যবসায়ী, বিদ্যুৎ আমদানিকারকদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে সাধারণ জনগণের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হল। বিদ্যুৎ এমন একটি পরিষেবা যা অন্যান্য দ্রব্যের উৎপাদন খরচের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে সরকার দাম বাড়িয়ে যত টাকা আয় করবে তার বহুগুণ খরচ বাড়বে সাধারণ মানুষের। এমনিতেই চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ দিশেহারা। তারপর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা তাদের জীবনকে অসহনীয় করে তুলবে। জনগণ এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত মুখ বুঝে মেনে নিবে না। মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

Leave A Reply