চাষাঢ়া শহীদ মিনার দিনদিন হারাচ্ছে তার পবিত্রতা

0

গৌতম সাহা, বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি…”। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী বাংলা ভাষার জন্য প্রান দেওয়া শহীদদের জন্য ণির্মিত নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনার। অনেক আত্মত্যাগ, অনেক আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৮৫ সালে পূর্ণাঙ্গরুপু পায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনার। কেন্দ্রিয় এই শহীদ মিনারটি বৃহৎ হলেও আজ তা অযত্নে অবহেলায় আর মানুষের নস্ট বিবেকের কারনে হারাচ্ছে তার পবিত্রতা। মাদকসেবী আর পতিতাদের নিরাপদ স্থানে পরিনত হয়েছে এই শহীদ মিনার। সন্ধার পর শুরু হয় তাদের অপকর্ম। গত কয়েকদিন আগে রাতে দেখা যায় মাদকদ্রব্য খালি বিয়ার ক্যান। শুধু তাই নয় প্রায়ই আবার দেখা যায় ফেন্সিডিলের খালি বোতল। বেদীতে জুতা নিয়ে বসে থাকে মানুষ। যা শহীদ মিনারের পবিত্রতাকে নস্ট করছে। প্রতিদিন পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী একটু প্রশান্তির জন্য আড্ডা জমায় এই শহীদ মিনারে। তাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান এই শহীদ মিনারটি এখন আর আগের মত নাই। দিনদিন হারাচ্ছে তার পবিত্রতা। রাতের বেলায় প্রায়ই লাইটগুলো বন্ধ থাকায় এখানে মাদকসেবীরা নিরাপদে মাদকসেবন করতে পারে। তাছাড়া বেদীতে জুতা পায়ে উঠে মানুষ। তাদের নৈতিকতার বড় অভাব। পিতামাতাদেরও এগিয়ে আসতে তাদের সন্তানরা শহীদ মিনারে এসে কি করছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। পবিত্রতা রক্ষার্থে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই জানান, শহীদ মিনারে পবিত্রতা রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নারায়ণয়গঞ্জ সিটি করপোরেশনকে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় কাজ করা উচিত। তাদের নজরদারি বাড়াতে হবে।
সদর মডেল থানার ওসি শাহীন পারভেজ বলেন, পুলিশ, সাংবাদিক সহ সকল সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের সাথে কোন আপোষ নাই। আমি এর জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি যাতে করে শহীদ মিনারে কোন মাদকসেবী মাদকসেবন আর না করতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানী জানান, শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা কারো একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সম্মলিত প্রচেষ্টা থাকা জুরুরী। অতিতেও আমরা এখানে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। এর সমস্যা সমাধানে আমাদের সবাইকে উদ্যোগ গ্রহন করে কাজ করলে পবিত্রতা রক্ষা করা যাবে।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিনোদনের জায়গার খুবই অভাব। যার কারনে এই শহীদ মিনারে মানুষ ভীড় জমায়। এর পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন ও নাসিক কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। সবার চেষ্টায় শহীদ মিনারের পরিবেশ সুন্দর করা সম্ভব।
১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, মানুষের নিজের বিবেকের অবক্ষয় হয়েছে। নৈতিকতার অভাব। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনলাইন ঐক্য ৭১ এর আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সজীব জানান, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। শহীদ মিনারে যাতে করে মাদকসেবী আর কোন বিবেকহীন মানুষ কিছু না করতে পারে তার জন্য আমাদের একটি সম্মলিত উদ্যোগ গ্রহন করা জরুরী। তাহলেই পবিত্রতা রক্ষা করা সম্ভব।
জয় বাংলা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মাফুজ হোসেন জিশাদ বলেন, শহীদ মিনারে শৃঙ্খলা রাখতে হলে সিকিউরিটি গার্ড রাখা দরকার। যা সবাইকে একত্রিত হয়ে এর ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে এর পবিত্রতা রক্ষা করা যায়।
একটি সম্মিলিত উদ্যোগে রক্ষা করা সম্ভব চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পবিত্রতা। তার জন্য পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি সহ সমাজের সকল সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসা জরুরী। না হলে একসময় বিলিন হয়ে যাবে এর ইতিহাস।

329 Shares

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.