আগামীতে আয়কর প্রদানের সংখ্যা আরো উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা সেলিম ওসামনের

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, সভায় সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। যার মধ্যে ২৮ হাজার মানুষ তাদের আয়কর প্রদান করেন। গত বছর এই সংখ্যা আরো কম ছিল। চলতি বছরে আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মানে হচ্ছে ব্যবসায়ীরা সরকারকে ট্যাক্স দিতে আগ্রহী। আয়কর বিভাগের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে আগামী বছর আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা যাতে ৫০ হাজারে উন্নীত হয়। তবে এরজন্য আপনাদের আরো বেশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শুধু বছরে একবার মেলা করেই এটা সম্ভব নয়। পত্রিকায় দেখেছি আপনার নিতাইগঞ্জের নয় সমিতির সাথে আলোচনা করেছেন। এতে করে সেখানকার ব্যবসায়ীরাও সন্তোষ্ট। তেমনি ভাবে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাথে আপনারা আলোচনা করতে পারেন। প্রায় ৪২ ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের মাধ্যমে প্রতি মাসেই ব্যবসায়ীদের সাথে সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে। এছাড়াও আপনারা চাইলে বিকেএমইএ এর সহযোগীতা নিতে পারবেন। আপনারা বিকেএমইএ কাছে সহযোগীতা চাইলে বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় গিয়ে আয়কর প্রদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করবে।

বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে আয়োজিত আয়কর মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

করদাতাদের উৎসাহিত ও নতুন করদাতাকে করের আওতায় আনার জন্য ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে নারায়ণঞ্জের কর অঞ্চলের আয়োজিত চারদিন ব্যাপী আয়কর মেলা ২০১৭। এবছর আয়কর মেলায় আয়কর আদায়ের লক্ষ্য মাত্রা নিধারণ করা হয়েছে তিন কোটি টাকা। মেলায় বসেছে ২৪ টি স্টল যাতে রয়েছে ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা, রিটার্ন দাখিল করা, ই-পেমেন্ট কর পরিশোধ, ভ্যাট সংক্রান্ত পরামর্শ, সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত ইত্যাদি। এছাড়া বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা বুথ রয়েছে। কর পরিশোধের জন্য মেলায় রয়েছে সোনালী ও জনতা ব্যাংকের বুথ।

অনুষ্ঠানে আয়কর কর্মকর্তাদের ডিজিটাল প্রযুক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করতে প্রশিক্ষনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে আপনাদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে পারদর্শী জনবল প্রয়োজন রয়েছে। যার হয়তো ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু আপনারা যদি সেই দক্ষতা অর্জন করতে না পারেন তাহলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন না। তাই আপনাদের মাঝে যাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে তাদেরকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য যদি আপনারা বিকেএমইএ সহযোগীতা নেওয়া প্রয়োজন মনে করেন তাহলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে সহযোগীতা করা যেতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেন, যে জনগণের করের টাকায় সরকারী কর্মকান্ড পরিচালিত হয় সেই জনগণের সেবা করাই সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, গাড়ী চালাতে যেমন তেলের প্রয়োজন তেমনী দেশ পরিচালনার জন্য করের প্রয়োজন।

সারাদেশের ন্যায় এবছরও নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চলের উদ্যোগে ১ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২ নভেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেলার শিল্প কলা একাডেমীতে, ৬ নভেম্বর সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জ উপজেলায় এবং ৭ নভেম্বর টঙ্গীবাড়ী ও শ্রীনগর উপজেলায় আয়কর মেলা শুরু হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলবে। এছাড়া শুক্রবার ও শনিবার সরকারী অফিস বন্ধের দিন করদাতাদের সেবা প্রদাণকরার জন্য আরো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে করদর্পণ নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে উদ্বোধনী দিনেই করদাতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে আয়কর মেলা।

কর কমিশনার রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে কোনও পরিবারের সকল সদস্য কর প্রদান করে আসছে সেই পরিবারকে ‘কর বাহাদুর পরিবার’ হিসেবে সম্মননা দেয়া হবে। করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য আয়কর মেলার পর ৮ নভেম্বর সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী ও দীর্ঘমেয়াদী আয়কর প্রদানকারীদের সম্মাননা দেয়া হবে। সৎ করদাতাদের উৎসাহিত ও নতুন করদাতাকে করের আওতায় আনার জন্য ট্যাক্স কার্ডের পরিধি বৃদ্ধি করে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করা হবে।

নারায়ণগঞ্জের কর কমিশনার মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান, বিকেএমইএ’র পরিচালক মঞ্জুরুল হক, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, শাহাদাৎ হোসেন সাজনুসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক সংগঠনে নেতৃবৃন্দ ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ। এছাড়া অতিরিক্ত কর কমিশনার মোঃ জাকির হোসেন, যুগ্ম কর কমিশনার এসএম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.