শহরে সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চার সমাবেশ ও মিছিল

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, দখলদারিত্ব, অর্থপাচার, ব্যাংক ডাকাতি বন্ধ করার দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু, বাসদ (মার্কসবাদী) নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক মঞ্জুরুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক ধীমান সাহা জুয়েল, বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ, গণসংহতি আন্দোলন নেতা অঞ্জন দাস।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঘুষ, দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। টিআইবি ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১৫ তম। নির্বাচনের সময় হলফনামা পর্যালোচনা করে জানা যায় ক্ষমতায় থাকার সময় মন্ত্রী,্ এমপিদের সম্পদের পরিমান বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রের সর্ব্বোচ্চ পর্যায় থেকে দুর্নীতি অস্বীকার করার মানসিকতাই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়। সরকারী দলের ছত্রছায়ায় সারাদেশে জমি, হাট, ঘাট, নদী, খাল, বন দখলের মহোৎসব চলছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও শেয়ার বাজার কেলেংকারী ঘটেছে। হলমার্কের ৪০০০ কোটি টাকা অর্থমন্ত্রীর কাছে কোন টাকাই নয়, অথচ ১ লক্ষ টাকা ব্যাংক আমানতকারী তার কাছে ধনী হিসাবে পরিগনিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮১০ কোটি টাকা লোপাট হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র মতে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত গত ৫ বছরে ১৮৪৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করেছে রাষ্ট্রায়াত্ব বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ৭ টি ব্যাংক। রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকগুলোতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লুটপাটের হিড়িক চলছে। একদিকে প্রভিশন ঘাটতি অন্যদিকে সুদ মওকুফ দুটোই পরস্পর বিরোধী। এ বছর বাজেটে ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করে উল্টো এ খাতে ২০০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। দেশের টাকা লুটপাট করে ধনীরা বিদেশে টাকা পাচার করে। অর্থ পাচারের বিষয়ে জিএফআই এর প্রতিবেদনে জানা যায় ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৭৫৮৫ কোটি ডলার বা ৬০৬৮৬৮ কোটি টাকা শুধুমাত্র২০১৪ সালেই পাচার হয়েছে ৭২৮৭২ কোটি টাকা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে চলছে গুম-খুন-অপহরণ। নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশ আজ বিপর্যস্ত। নেতৃবৃন্দ গণবিরোধী অপশাসনের বিরুদ্ধে বামপন্থিদের নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

 

 

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.