না’গঞ্জে আওয়ামীলীগ বিএনপিতে দু-রকম ধোঁয়াশা

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। কিন্তু সেই প্রস্তুতির ধরন কেমন হবে তা নিয়ে নেতা-কর্মীরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছে। আগামীতে কোন আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে দলের মধ্যে। এই অবস্থায় নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এতে নেতা-কর্মীরাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির হাইকমান্ড থেকেও মাঠের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানানো হলেও নেতা-কর্মীরা জানে না, আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে। তা ছাড়া বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কী না তা নিয়েও নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আছে। আবার সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের ধরন কেমন হবে তা নিয়েও অন্ধকারে আছে দলের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির মতো যদি সহায়ক সরকারের দাবিতে হওয়া আন্দোলন ব্যর্থ হয় তবে এর পরিণতি নিয়েও উদ্বিগ্ন নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ। তবে অনেকের আশা, এবার আর ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন হবে। সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে এবং তা নিরেপক্ষ ও অবাধ হলে বিএনপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করতে পারবে।

সূত্রে জানা যায়, একটি সংসদের প্রথম অধিবেশনের ঠিক পাঁচ বছর পর ওই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়। ক্ষমতাসীনরা বলছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। ফলে ২০১৮ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর কিংবা ২০১৯ এর জানুয়ারিতে একাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু বছর দেড়েক বাকী থাকতেই নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র আগামী নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে কথা চালাচালি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অবশ্য আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির শীর্ষ মহল থেকে নেতা-কর্মীদের নির্বাচন প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার জন্য হাইকমান্ড যে নির্দেশ দিয়েছেন তার সাথে মাঠের বাস্তবতার অনেক ফারাক। তাদের মতে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে স্থাণীয় সাংসদদের সাথে মাঠের নেতা-কর্মীদের অনেক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তাদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন থেকে এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীসহ জনগণের তেমন খোঁজ-খবর নেয়নি। এই অবস্থায় আগামী নির্বাচনে কোন আসনে কে প্রার্থী হবেন, তা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা না হলে নির্বাচন প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হবে। কারণ, প্রতি আসনে ৫/৬ জন করে আওয়ামী লীগের নেতা আছেন যারা এমপি মনোনয়ন পেতে চান। এই অবস্থায় সবাই আলাদা আলাদা প্রস্তুতি নিলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়বে। এর একটি নেতিবাচক প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে।
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেন্দ্র থেকে আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে একটি ধারণা দিলে প্রস্তুতি নিতে সহজ হবে। অন্যথায় দলীয় ঐক্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, জেলার একেকটি নির্বাচনী আসনে ৫/৬ জন এমপি প্রার্থী হিসেবে দলের নমিনেশন পেতে চান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকায় ওই সময় যারা এমপি হয়েছেন তাদেরকে এবার অনেকেই চায় না। তাই হাইকমান্ড যদি তৃণমূলের দাবি বিবেচনায় নিয়ে দলের এমপি নমিশনের পাবেন বা পেতে পারেন এমন নেতাদের একটি শর্টলিস্ট করে তবে সমন্বিতভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়া যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড.খোকন সাহা বলেন, এখনো নির্বাচনের অনেক বাকী। তবে আমাদের কাজ চলছে। সময় হলেই দলীয় এমপি প্রার্থীদের শর্টলিস্ট প্রকাশ করা হবে। তবে এখন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা রানিং (বর্তমান) জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নেবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ থাকলেও তারা এখনো নিশ্চিত নয় আগামী নির্বাচনে দলের ভূমিকা কী হবে। বিশেষ করে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে-তার সুরাহা না হওয়ায় দলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি আছে। এ ছাড়া বিগত আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় আবারও নতুন করে আন্দোলন শুরু হলে তাতে সফলতা পাওয়া নিয়েও নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আছে। এই নির্বাচন এবং আন্দোলন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের দোটানা ভাব দেখা গেছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির এক সহ-সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ইলেকশনে অংশ না নিয়ে দল যে ভূল করেছে তা থেকে এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়নি। হাইকমান্ড থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিলেও মাঠের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ কাটেনি। দলীয় সভায় বিভিন্ন প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়।

অবশ্য এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, সরকার অনড় থাকলে অধিকার ফিরে পেতে জনগণ কোন পথে হাটবে তার সিদ্ধান্ত তখন নেবে বিএনপি। সংকট সমাধানে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে বলেও প্রত্যাশা বিএনপির এই নেতার। তিনি বলেন, নেতা-কর্মীসহ নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে বিএনপির মেসেজ হচ্ছে, এবার কাউকে এক তরফা নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। সকল নাগরিকের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তা নিশ্চিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.