সোনারগাঁ থানার ওসি’র বিরুদ্ধে আছমার মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

সোনারগাঁ থানার ওসি মঞ্জুর কাদেরের বিরুদ্ধে সোনারাগাঁয়ের ভূমিদস্যূ ফারুক গংদের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগী আছমার মামলা না নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সোনারগাঁ থানার মুন্সিপুর গ্রামের আছমা বেগম জীবনের নিরাপত্তা ও নিজ জমি ফিরে পাওয়ার জন্য ভূমিদস্যু ফারুক-ফকির গংদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মৃত দানিছ ফকিরের স্ত্রী আছমা বেগম জানান, আমি আছমা বেগম আমার স্বামীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৪.১৪ শতাংশ জায়গায় সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছি। আমার জায়গা জোর পূর্বক দখলের জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ আামার সেঝু ভাসুর মৃত মান্নান ফকিরের ছেলে ফারুক ফকির গংরা পায়তারা চালাচ্ছে। আমাদের বাড়িতে ফারুক গংরা ১৫/২০ জন নিয়ে হামলা চালায়। এসময় আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও আমাদের মারধর করে। এ ব্যাপারে আমরা নিরাপত্তার জন্য চলতি বছরের ১ জানুয়ার তে সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করি। কিন্তু থানা থেকে এ বিষয়ে অবগত করলেও ফারুক ফকির আবারও আমাদের হুমকি দিয়ে বলে ১৫ দিনের ভিতর জমি দখল করে আমাদের জমি ছাড়া করবে। উপায় না পেয়ে আমরা ৪ এপ্রিল সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্বামীর সম্পত্তির উপর নির্মিত বসতভাড়ি ভেঙ্গে দখলের হুমকি প্রদান ও নিরাপত্তার জন্য ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের প্রসঙ্গে একটি আবেদন করি। কিন্তু ফারুক ফকিরের অত্যাচার দিনদিন আরো বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ গত ১৪ জুলাই সকাল সাড়ে ১০ টায় ফারুক, দিলরুবা বেগম, লিটন ফকির ও কামরুজ্জামান খোকা অজ্ঞাত আরো ২০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের বাড়িতে পুনরায় হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ভাংচুর করে। হামলার এক পর্যায়ে আমার ছেলেকে এলোপাতারি মারধর করে ও আমাদের প্রান নাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আইনী সহায়তার জন্য আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে সোনারগাঁ থানায় গেলে ডিউটিরত অফিসার একটি সাধারণ ডায়রী লিপিবদ্ধ করেন। আমরা আগের জিডির কপি দেখিয়ে মামলা করতে বললে তিনি আমাদের বলেন মামলা করা যাবে না। ডিউটি অফিসারকে হাতে পায়ে ধরে মামলা নেওয়ার অনুরোধ করলে। তিনি শেষে বলেন ওসি স্যার আসুন। জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে সারাদিন থানায় অবস্থান করি। রাত ৮ টায় ওসি সাহেব আসলে। তাকে ঘটনা বলতেই তিনি বলেন ফারুক ফকির সকালে থানায় আসছিল তার তো ঘর ভাঙ্গার কথা না। অভিযোগ করছেন? অভিযোগ পত্র নিয়ে যান। আমার মেয়ে ওসির পা ধরে জীবন বাঁচানোর জন্য কাদতে থাকে সাথে আমরাও। তখন ওসি দয়া দেখিয়ে বলেন তোমরা এখন চলে যাও পুলিশ সরজমিনে তদন্ত করে যদি দেখে ভাংচুর হয়েছে তাহলে মামলা নিবো। পুলিশ তদন্ত এসে ভাংচুরের আলামত দেখে বলেন আগামীকাল থানায় আসো মামলা নিবো। কিন্তু পরের দিন আধা বেলা থানায় বসে থাকার পরেও মামলা নেননি ওসি। এমতাবস্থায় আমি ইউএনও স্যারকে ফোনে জানালে তিনি ওসি সাহেবকে মামলা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ওসি মঞ্জুর কাদের মামলা না নিয়ে বলেন তোমার ঘর আগামীকাল ফারুকরা ঠিক করে দিবে। এখন চলে যাও। মামলা নেওয়ার কথা আবার বললে ওসি আমাদের সাথে রাগারাগি করেন।
আমাদের বসত বাড়ি ফিরে পেতে ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি এবং হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমি যাতে আমার ছেলে মেয়ে নিশ্চিন্তে বাড়িতে বসবস করতে পারি।
এ ব্যাপারে সোনারগা থানার ওসি মঞ্জুর কাদেরকে ০১৭১৩৩৭৩৩৫০ নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave A Reply