১৬ জুন বোমা হামলার মূল টার্গেট ছিল আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করা-সানি।

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলার মূল টার্গেট ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান ও আওয়ামীলীগ। কারন শামীম ওসমানকে ক্ষতি করতে পারলেই আওয়ামীলীগতে ধ্বংস করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি

রবিবার সকালে গনমাধ্যমকর্মীর কাছে এমনটিই মন্তব্য করেন তিনি।

১৬ জুন বোমা হামলার সৃত্মিচারন করে বলেন, ২০১১ সালে চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসের বোমা হামলার ঘটনা খুবই মর্মান্তিক একটি ঘটনা। ২০১১ সালের ১ লা অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন আর এই সালের ১৬ জুন বোমা হামলা। এই বোমা হামলা করার টার্গেট ছিল আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মূল স্তম্ভকে কাপিইয়ে দেওয়া। ৯৮ সালে জননেতা সাংসদ শামীম ওসমান জাতীয় সংসদের শ্রেষ্ঠ সংসদ সদস্য উপাধি পান এবং সেই সময় তার সাংগঠনিক দক্ষতা এতটাই বৃদ্ধি পেল যে আওয়ামীলীগকে চাঙ্গা করতে তাকে প্রয়োজন। নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে জয়যুক্ত করতে তার মত নেতার প্রয়োজন। ১৬ জুন বিশাল বড় আরডিএক্স বোমা ব্যবহার করা যায়। যা কিনা বড় বড় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ব্যবহার করে। এই বোমা ব্যবহার করার একটাই কারন তা হল আওয়ামীলীগের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়া। যাতে আগামী নির্বাচনে শামীম ওসমানের মত নেতারা মাঠে না থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, শামীম ওসমানের উপর আঘাত সমগ্র বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের স্থগিত হয়ে যাওয়া। তাই এই হামলা করা হয়েছে। যার বহিঃ প্রকাশ ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট। ১৬ জুন বোমা হামলা ২১ আওয়ামীলীগের নেতকর্মী নিহত হয়। সেই সাথে শামীম ওসমান সহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। ওই সময় কারো পা উড়ে গেছে, কারো হাত উড়ে গেছে ও কারো দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শামীম ভাইয়ের নিজের শরীরেও বোমার অসংখ্য স্পিøন্টার ডুকে যায়। আর সেই সময় রক্তের উপর শুয়ে থাকে শামীম ওসমান। আমি স্যালুট জানাই তাকে যে আমি এমন একজন নেতার নেতৃত্বে রাজনীতি করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। যে কিনা ওইসময় মৃত্যু যন্ত্রনা ভোগ করার পরও বলেছিলেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচান। এমন আত্মত্যাগ ও নেত্রীর প্রতি এমন ভালবাসা আজকালকার রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। শামীম ওসমানের মত নেতারা আছে বলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ জীবিত আছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সুসংগঠিত আছে। যখন মুরসালিন ও মুত্তাকিন নামে দুই জঙ্গি গ্রেফতার হয়। তখন তারা এই বোমা হামলার দায় শিকার করেন। যারা এখনো ভারতের তিহার জেলে কারাবন্দী রয়েছেন। তাদের দেশে আনার চুক্তি চলছে। কিন্তু আমার অবাক ১৮ বছর হয়ে গেল এই বোমা হামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। এই বিচার কার্য দেরী হচ্ছে।

দলের মোস্তাকদের প্রসঙ্গে বলেন, স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তির মুখোশ পড়ে জামাত বিএনপির সাথে আতাত করে মোস্তাকীয় প্রেতাত্মারা আওয়ামীলীগকে ধ্বংসের পায়তারা চালাচ্ছে। কারন এই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দূর্গ হচ্ছে এই নারায়ণগঞ্জ। এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই ৬ দফা দাবি, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল। জামাত বিএনপির মূল টার্গেট এই নারায়ণগঞ্জ ও শামীম ওসমান। ওসমান পরিবারকে ধ্বংস করতে পারলেই আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করা যাবে এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা এই জেলায় ঘাটি তৈরি করতে পারবে। তাই বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীণ আওয়ামীলীগের নামে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়েছে। ওই সময় মোস্তাকরা তাদের সাথে আতাত করেছে। তিনি আরো বলেন, মোস্তাকীয় প্রেতাত্মারা এই বোমা হামলা জন্য একদিন বিচার চায় নাই। আওয়ামীলীগের পক্ষে কথা বলে নই। কিন্তু সত্যের জয় হয়েছে। জনগন আওয়ামীলীগকে জয়ী করে ক্ষমতায় এনেছে। বোমা হামলাকারীরা অনেক এখন কারাবন্দী। এই মোস্তাকরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগের সুবিধা নিয়ে আওয়ামীলীগের ধ্বংসের চেষ্টা চালায়। তাই এইসব সুবিধাভোগী মোস্তাকদের চিহ্নিত করে দলের সকল সুবিধা বঞ্চিত করতে হবে এবং তাদের দল বিতারিত করতে হবে। আমি একজন কর্মী হিসেবে আরো দাবি জানাই তাদের বিতারিত করে ত্যাগী নেতৃবৃন্দকে মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বোমা হামলায় আহত ও নিহতদের পরিবারদের উদ্দেশ্যে বলেন, বোমা হামলায় আহত ও নিহতদের পরিবারদের আমরা ১৬ জুন এলেই স্মরণ করবো আর সারা বছর ভুলে থাকবো এমন যেন না হয়। তাহলে তাদের প্রতি আমাদের অন্যায় করা হবে। আমরা ভোগের রাজনীতি না ত্যাগের রাজনীতি চাই। আমি যতটুকু জানি রাষ্ট্রের এবং সাংসদ শামীম ওসমান ভাইয়ের পক্ষ থেকে একটা সহযোগীতা করা হয়েছে। আমি জোর দাবি রাখছি দলের সকল নেতাকর্মীরা ঐকবদ্ধ হয়ে দলের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারদের সহযোগীতা করা হোক।

0 Shares
শেয়ার করুন.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.