হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীর বক্তব্যে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ॥ গ্রেফতারের দাবি

0
বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ত্বকী মঞ্চের নেতা হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীর জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে কুটক্তি,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদ নিয়ে কুটক্তি ও সাংসদ শামীম ওসমান সহ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা।
সোমবার  তারা এই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন  হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীর বক্তব্যের বিষয়ে বলেন, পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়। পাগল আর ছাগলের কথা নিয়ে আর কি প্রতিক্রিয়া জানাবো। তারা যদি পাগল হয়ে থাকে তাহলে বিচারের কথা বলবে। পাগল ছাগলের কথায় আমি কথা বলতে নারাজ।
মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, জয় বাংলা শ্লোগান একটি পবিত্র শ্লোগান। সুশীল নামের কুশিলরা এই শ্লোগান নিয়ে কুটক্তি করছে এটা নিন্দনীয় কাজ। দেশদ্রোহী কাজ। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীরা সমাজের কোন কাজে আসে না। এদের কাজ হচ্ছে দালালী করা। নারায়নগঞ্জের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার জন্য এরা পরিকল্পিতভাবে মাঠে নেমেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পবিত্র সংসদ নিয়ে এরা বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছে তাতে করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আমি মনে করি প্রশাসন খুব দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। মাননীয় সাংসদ শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান ও আজমেরী ওসমান নিয়ে তারা যে বক্তব্য দিয়েছে তাতে আমার মনে হচ্ছে তারা কোন অসত উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমি মনে করি তারা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি করার জন্য তারা একটি এজেন্ট নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমরা সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ নিয়ে হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীর এমন করুচি বক্তব্য অবশ্যই নিন্দনীয়। এটা দেশদ্রোহীতার সামিল। আমার নেতা সাংসদ শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোন প্রমান ছাড়াই দোষারোপ করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে নারায়নগঞ্জের সুদক্ষ প্রশাসনের কাছে হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীর গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল বলেন, হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বী ওরা হল নাস্তিক। খারাপ মানুষ। যার বিরুদ্ধে কোন মামলা নাই যার নামে কোন অভিযোগ নাই তার বিরুদ্ধে কিভাবে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব দেয় ওরা। একজন তিনবারের নির্বাচিত এমপি শামীম ওসমান ও মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কুটক্তিমূলক ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে নাস্তিক হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, এরা একটা পক্ষকে খুশি করতে ও প্রশাসনকে বিভ্রান্তি করতে এই ধরনের কুটক্তি ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই ও প্রতিবাদ জানাই।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, যারা এই ধরনের কুটক্তি করে এমন বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করে তারা স্বাধীনতায় বিশ^াসী না। তাদের এই দেশে থাকার কোন অধিকার নেই। তারা পাকিস্তানে চলে যাক। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় বিশ^াসী না তারাই এমন কুটক্তি করতে পারে। তাদের কথা বলতে আমার ঘৃনাবোধ হয়। ওসমান পরিবার আওয়ামীলীগের একটি প্রতিষ্ঠান। আর এই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এমন বক্তব্য খুবই দুঃখজনক। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ জানান, আমরা অত্যন্ত ঘৃনা প্রকাশ করছি রফিউর রাব্বী ও হালিম আজাদের এমন কর্মকান্ডের। একজন বাবা হয়ে ছেলের লাশ নিয়ে কিভাবে বানিজ্য করে তা আমাদের বোধগম্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পবিত্র সংসদ, জননেতা শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে কুটক্তি করেছে তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আশা রাখি প্রশাসন যথাযতভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। যে মামলায় ওসমান পরিবারের সদস্যদের নাম নেই। তাদের বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ নেই। যেখানে মামলা তদন্তাধীন আছে সেখানে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এই ধরনের বক্তব্য অবশ্যই আইনের পরিপন্থী। হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা যদি মাঠে নামি এতে করে যদি নারায়ণগঞ্জ অশান্ত হয় এই দায়ভার ছাত্রলীগ বহন করবে না। আমাদেরও ধৈর্য্যরে সীমা আছে। আমরা সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ করে পরিবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল জানান, জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে কুটক্তি ও আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের নেতা শামীম ওসমানকে নিয়ে হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বির বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রমান ছাড়া কাউকে দোষারোপ করা ঠিক না। হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বী তারা একটি এজেন্ট হয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ও আওয়ামীলীগের বিশ^স্ত ভ্যানগার্ড ওসমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করছে। আওয়ামীলীগের শক্তিকে দুর্বল করতেই তারা এমন মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কোন তথ্য প্রমান ছাড়াই তারা মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করছেন।
নাসিক প্যানেল মেয়র ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি বলেন, হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীর এমন তথ্য প্রমান ছাড়া ওসমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।  আমার নেতা সাংসদ শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানকে নিয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদীতভাবে এমন মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করছে হালিম আজাদরা। সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে তারা এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
১৭ নং কাউন্সিলর ওয়ার্ড আব্দুল করিম বাবু বলেন, হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীর মত সুশীলরা সমাজের কীট পতঙ্গ। তারা কীটপতঙ্গ বলেই জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে কুটক্তি করে কথা বলে ও আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করে। তারা এদেশের উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ করতে আমাদের নেতা মাননীয় সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ওসমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এমন বিভ্রান্তি মেনে নেওয়া যায় না। কোন প্রমান ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা বক্তব্যে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সাফায়েত আলম সানি বলেন, জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে দুইটা শ্রেনীর এলার্জি আছে। একটা  শ্রেনী রাজাকার আলবদর জামাত শিবির। আরেকটা শ্রেনী যারা মহান স্বাধীনতার মুক্তিযুদ্ধকে বলেছিল দুই কুকুরের লড়াই। কিছু অতি বিপ্লবী বাম শ্রেনীদের জয় বাংলা শ্লোগানে এলার্জি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তে এলার্জি ও আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু তে এলার্জি তারাই এদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগকে মুছে ফেলতে চায়। যারা এই জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে কুটক্তি করে তাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশে বসবাস করে এদেশের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অধিকার নেই। আওয়ামীলীগকে টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশের যে কয়েকটি পরিবার রয়েছে তার মধ্যে ওসমান পরিবার অন্যতম। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে ওসমান পরিবারের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের সমগ্র স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন করেছিল। ওসমান পরিবারকে হেয় করার জন্য এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামীলীগকে টিকিয়ে রাখতে ওসমান পরিবারের প্রয়োজন। তাই ওসমান পরিবারকে ক্ষতি করতে তারা এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি হালিম আজাদ ও রফিউর রাব্বীকে আইনের আওতায় এনে জিঞ্জাসাবাদ করা হোক।
এছাড়া জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সহ অন্যান্যরা জনপ্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
0 Shares
শেয়ার করুন.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.