সাংসদ ভ্রাতৃদ্ধয়কে নিয়ে মালার অশালীন মন্তবে তৃনমূলে ক্ষোভ বিরাজ

0

না’গঞ্জ আ’লীগে ভাঙছে পুরানো চেইন অব কমান্ড

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, সিনিয়র নেতাদের দায়িত্বহীনতা এমনকি দলের সাংসদ সদস্যদের নিয়ে অশ্লীল বক্তব্যের অডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক অঙ্গন। আর নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের বিতর্কিত এমন কর্মকান্ডের বর্তমান দশা দেখে অনেকেই বলছেন, ‘পুরনো চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্যান্য জেলার রাজনীতিতে বইছে সুবাতাস, তখন শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বর্তমান সিনিয়র নেতাদের এমন আচরণ ভাবিয়ে তুলেছে দলের হাইকমান্ডকে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের পুরনো বলয় ভেঙে নতুন ধারায় চলতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের রাজনীতি। সে কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অস্তিরতার পেছনে তৃনমূল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন এ ষড়যন্ত্রের পেছনে দক্ষিন মেরুর আওয়ামীলীগের রাজনীতির ইন্ধন রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে কয়েকটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ যুব মহিলালীগের পাল্টা পাল্টি কমিটি এবং জেলা কৃষকলীগের কমিটিকে কেন্দ্র করে দলের ভিতর ঘাঁপটি মেরে থাকা দীর্ঘদীনের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। সম্প্রতি মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড.খোকন সাহার চেম্বারে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একে এম সেলিম ওসমানকে নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালার অশালীন বক্তব্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে ওসমান সমর্থকদের মধ্যে। অপরদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের নেত্রী মাহমুদা মালার নীতিবাচক মন্তব্যে ক্ষোভ বিরাজ করেছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীরে সিনিয়র নেৃতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃনমূল পর্যায়ের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দের মাঝে। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির অস্থিত্ব রক্ষাসহ সাধারন নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে সাংসদ শামীম ওসমান দক্ষ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের দাবিদার হলেও তারই অনুগামী জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কতিপয় রাজনীতিবীদরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। আর চলমান কোন্দল আগামি জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের বড় ধরনের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নির্বাচনের প্রার্থিতাসহ নানা কারণে দলে রীতিমতো বিস্ফোরণোন্মুখ অবস্থান বিরাজ করছে। রাজনৈতিক নীতি-কৌশলগত বিতর্ক, তবে সর্বত্র ব্যক্তি ও গ্রুপের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্যের লড়াই, দলীয় নেতাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই বেসামাল। এছাড়া সরব আলোচনা না থাকলেও নীতিগত একটি প্রশ্নই সামনে এসেছে, তা হলো হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা নিয়ে দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক কর্মী-সমর্থকের মনে প্রশ্ন, কোথায় দাঁড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ? কর্মী-সমর্থকরা চান, বিভ্রান্তির কুয়াশা দূর করে আওয়ামী লীগ আত্মশক্তির উদ্বোধন ঘটিয়ে আগামী নির্বাচনে মেরুদ- সোজা করে জনগণের সামনে দাঁড়াক।
এদিকে দলের মধ্যে কতিপয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের রহস্যময় আচরনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা বলেন, এমনিতেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ-বিবাদে পর্যুদস্ত হয়ে আছে আওয়ামী লীগ। তাই এখনই গৃহদাহ মিটিয়ে দলকে দ্রুত আরও গুছিয়ে নেওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে যোগোযোগ করা হলে উল্লেখিত সংবাদ বিষয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজী হয়নি তবে তারা বলেছেন সময়মত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

 

Leave A Reply