শোকের মাসে না’গঞ্জে জঙ্গীদের ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা!

0

অবশেষে সাংসদ শামীম ওসমানের শংকাই সত্য ॥ জঙ্গী দমনে তৎপর জেলা প্রশাসন

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত প্রতিটি জেলায় নাশকতার ছক আকঁছে জামায়াত শিবির চক্র তথা জঙ্গী সংগঠনগুলো। জঙ্গীদের তালিকার বাহিরে নেই নারায়ণগঞ্জ জেলাও। নারায়ণগঞ্জে নাশকতাসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঘাঁয়েল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে জঙ্গী সংগঠনগুলো। জঙ্গীসংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জেলার বিভিন্নস্থানে ঘাটিঁ বাধতে শুরু করেছে। এমনকি স্বেচ্ছাসেবকলীগের একটি অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪(ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি বসে নেই। তারা দেশব্যাপী বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা করছে। নারায়ণগঞ্জেও তারা জঙ্গী হামলার পরিকল্পনা করছে। এদিকে জঙ্গী দমনে জিরো টলারেন্সে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। জঙ্গী দমনে একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছে সফল অভিযান। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে গোপন বৈঠকের পরিচালনা করাকালে অর্ধ শতাধিক জামায়াত শিবির ক্যাডারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে স্থাণীয় পুলিশ প্রশাসন এমনকি ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকা থেকে নব্য জেএমবি তামিম-সারোয়ার গ্রুপের তিন সদস্যকে অস্ত্র, গুলি এবং বিষ্ফোরকসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা। জঙ্গী দমনে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গীদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে বের হয়েছে বলেও সূত্রে প্রকাশ। জামিনে বের হয়ে আসার পর পূনরায় জঙ্গী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত জঙ্গীদের সাথে ফতুল্লা মডেল থানায় আলাপকালে তারা জানিয়েছেন। তবে গ্রেফতারকৃত জঙ্গীদের পরবর্তী পরিকল্পনা সর্ম্পকে কিছুই জানায়নি তারা। এদিকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গীরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কিছু বলতে রাজী না হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই ফয়েজ জানিয়েছেন, র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গীদের দেয়া তথ্য অনুয়ারী অভিযান পরিচালিত হবে।
সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে কর্মরত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বলে আসছিল আগামী শোকের মাসকে সামনে রেখে জঙ্গী গোষ্ঠি গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট এ লক্ষ্যে কাজ করছিল বলে র‌্যাবের স্থানীয় কমান্ডার জানিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নব্য জেএমবি প্রধান সালাউদ্দিনের মূল আস্তানা ছিল। পুলিশের হাত থেকে সালাউদ্দিনকে ছিনিয়ে নেয়ার পর এখনও সে পলাতক। তাছাড়া সামরিক শাখার প্রধান সাজিদ ওরফে মাসুম ও মহিলা শাখার প্রধান ফাতেমা এখন ভারত ও বাংলাদেশের জেলে। র‌্যাবের তৎপরতার কারণে ফতুল্লা থেকে ৩ জেএমবি ও সোনারগাঁ পুলিশ ৪৪ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে সোনারগাঁয়ে গ্রেফতারকৃতরা নাশকতা মূলক কর্মকান্ড চালানোর উদ্দেশ্যে বৈঠককালে তাদের গ্রেফতার করে। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নব্য জেএমবির তিন শীর্ষ নেতার দীর্ঘ অবস্থানকালে তাদের বহু অনুসারি সৃষ্টি করেছে। এই সব অনুসারিরা বিভিন্ন পেশা আবরণে নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপনে আছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পর অবশেষে র‌্যাব-পুলিশ এই সব জঙ্গীদের চিহিৃত করে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে। এর সূত্রধরে পুলিশ সোনারগাঁ থেকে ৪৪ জন শিবির ক্যাডারকে গ্রেফতার করে। অপরদিকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১১ এর একটি দল ফতুল্লার বক্তাবলীর একটি চরে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিসংগঠন জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপের) ৩ সক্রিয সদস্যকে অস্ত্র গোলাবারুদ জঙ্গিবাদী বই ও লিফলেটসহ গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বক্তাবলী চরে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার মুরাদনগরের মোঃ ওয়ালি উল্ল্যাহ চিশতি ওরফে জনি ওরফে আবু ওমর(২৭), বাগের হাটের মোল্লার হাটের মোঃ আল আমি শেখ ওরফে রাজিব ওরফে রাজিব ইসলাম, ও কুমিল্লার দ্বেবীদ্বার থানার মোঃ কামরুল হাসান ও রফে হৃদয় (৩৫)কে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১ টি বিদেশী পিস্তল, ১ টি বিদেশী রিভলবার, ৫ রাউন্ড গুলি, ২ টি চাকু, বেশকিছু জঙ্গিবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন জেলায় জঙ্গি দাওযাতি কার্যক্রম ও সদস্য সংগ্রহ করে আসছিল বলে ব্রিফিংয়ে জানায় র‌্যাব। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সদস্যরা স্বীকার করে যে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ তথা জেএমবির (সারোয়ার-তামীম গ্রুপের) সক্রিয় সদস্য এবং তারা আগষ্ট মাসকে সামনে রেখে নাশকতার পরিকল্পনার জন্য তাদের এক শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে এই গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। পরে র‌্যাবের অভিযানের খবরে তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মোঃ ওয়ালিউল্লাহ চিশতি ওরফে জনি ওরফে মোহাম্মদ ওরফে আবু ওমর এবং মোঃ আল আমিন শেখ ওরফে রাজিবের নামে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত মোঃ ওয়ালিউল্লাহ চিশতি ওরফে জনি ওরফে মোহাম্মদ ওরফে আবু ওমর (২৭) ২০০৭ সালে ঢাকার একটি বেসরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে বিকম অধ্যায়ণরত থাকাকালীন পড়াশুনা ছেড়ে দেয়। পরে সে মধু বিক্রিসহ অন্যান্য ছোট-খাট ব্যবসা করতে থাকে। সে ২০১২ সালে মাওলানা জসিম উদ্দিন রাহমানির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয় এবং পরে ২০১৪ সালে মাওলানা আব্দুল হাকিম এর মাধ্যমে জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। মাওলানা আব্দুল হাকিম গ্রেফতার হওয়ার পর সে নন্দীপাড়াস্থ কোরআন সুন্নাহ একাডেমী মসজিদের খতিব শায়েখ আরিফ হোসেনকে ধর্মীয় গুরু মেনে জেএমবির সারোয়ার-তামীম গ্রুপে যোগদান করে এবং বাড্ডা এলাকার দাওয়াতী কাজের দায়িত্ব পায়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সে কুমিল্ল¬া ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় সংগঠনের জন্য কাজ করত। সে ২০১৬ সালে জেএমবির (সারোয়ার-তামীম গ্রুপের) দাওয়াতী শাখার বর্তমান আমির শায়েখ আরিফ হোসেন এর সাথে জামালপুর, রাজশাহী, বগুড়া, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এছাড়াও কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন চরে গমন করে সামরিক প্রশিক্ষণ এর জন্য জায়গা নির্ধারণের কাজ করেছিল। সে ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত জেএমবির (সারোয়ার-তামীম গ্রুপের) দাওয়াতী শাখার শুরা সদস্য, সংগঠনের অর্থদাতা ও ঢাকা মহানগরের পশ্চিম অঞ্চলের দাওয়াতী শাখার আমীর ইমরানের কাছ থেকে সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ করত। সর্বশেষ সে বাড্ডা এলাকার দাওয়াতী আমীর ও জেএমবির (সারোয়ার-তামীম গ্রুপের) সদস্য সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করছিল। গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে সে হিযরতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। মোঃ আল আমিন শেখ ওরফে রাজিব ওরফে রাজিব ইসলাম ওরফে ইসলাম শেখ ওরফে শেখ (২৫), ২০১১ সালে বাগেরহাটের একটি কারিগরী ও বাণিজ্যিক কলেজ থেকে কমার্সে এইচএসসি পাশ করে বি.কম (হিসাব বিজ্ঞান) শাখায় ভর্তি হয়। কিন্তু এক বছর পড়াশুনা করে ২০১৩ সালে সে পড়াশুনা ছেড়ে দেয়। ২০১৩ সালের ডিসে¤¦র মাসে বাগেরহাটের একটি মসজিদের ইমাম জনৈক তারেক ওরফে সাকিব এর সাথে তার সাক্ষাত হয় এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এই সাকিবের মাধ্যমেই পরে তৎকালীন জেএমবির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম নেতা মামুনের সাথে তার পরিচয় হয়। মামুন এবং সাকিব দুজনই তাকে জেএমবির দাওয়াত দেয় এবং সে দাওয়াত গ্রহণ করে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করে। তাদের কাছ থেকে সে জেএমবির বিভিন্ন ধরনের জঙ্গীবাদী নোট, সিট ও বই সংগ্রহ করত। মামুনের কাছ থেকে সে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেয়। পরে সে সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহ করত এবং তাদেরকে অস্ত্র প্রশিক্ষন দিত। মামুনের বাসায় সংগঠনের দাওয়াতী এবং সামরিক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হত। এই প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য ৭ জনের প্রশিক্ষক দল ছিল। মামুনের নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে প্রশিক্ষণ এর কাজ হত। এইভাবে প্রায় ২ বছর তাদের দাওয়াতী ও প্রশিক্ষণ এর কাজ চলতে থাকে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে মামুন নিহত হওয়ার পর তারা এলাকা ত্যাগ করে ছদ¥বেশ ধারন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করতে থাকে। পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুর দিকে পুনরায় তারেক ওরফে সাকিব এর নেতৃত্বে সংগঠনকে পুনঃর্গঠিত করতে থাকে। তারেক ওরফে সাকিব সামরিক শাখার দায়িত্ব নেয় এবং আল-আমিন ওরফে রাজিবকে সদস্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়। এই প্রেক্ষিতে আল-আমিন ছদ¥বেশ ধারণ করে মাদারীপুর, রাজবাড়ী এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সদস্য বাড়ানোর কাজ করে আসছিল ও এইসব কাজে তাকে সাহায্য করত জনৈক রফিক যার বাড়ি দক্ষিনাঞ্চলে। আল-আমিন ওরফে রাজিব ইতিপূর্বে র‌্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত ঢাকার কাইয়ুম, কাওছার ও নাজমুল ওরফে উকিল এর বাসায় আবার কখনো কখনো ছদ¥বেশ ধারণ করে অন্যত্র থেকে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ করে আসছিল। সর্বশেষ সে ঢাকার মিরপুরে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে সাইট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করত। প্রায় আড়াই মাস পূর্বে সে হিযরতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এদিকে গ্রেফতারকৃত জঙ্গী মোঃ কামরুল হাসান ওরফে হৃদয়(৩৫) কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। তারপর সে প্রায় ৭-৮ টি গার্মেন্টেসে বিভিন্ন সময়ে চাকুরী করেছে। ২০১৫ সালে সে ঢাকায় একটি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানীতে যোগদান করে। মোঃ কামরুল হাসান ওরফে হৃদয় ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে মোহাম্মদপুরের বছিলায় জসিম উদ্দিন রহমানির মসজিদে যাতায়াত শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের দিকে জনৈক ফিরোজ এর সাথে তার পরিচয় হয়। প্রাথমিকভাবে ফিরোজ তাকে ধর্মীয় বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে এবং পরবর্তীতে জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ করে। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে ফিরোজ এর মাধ্যমে জঙ্গী নেতা সাকিবের সাথে তার পরিচয় হয়। সাকিব বিভিন্ন সময়ে তার বাসায় যাতায়াত করত। সাকিব তাকে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গীবাদী বই ও সীট দিত এবং সেগুলো ভালভাবে মুখস্ত করতে বলত। সংগঠনের নিয়মিত সদস্য হিসেবে সে প্রতিমাসে সাকিবের নিকট ইয়ানত বা চাঁদা দিত। পরবর্তীতে সাকিব তাকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষনে অংশগ্রহনের প্রস্তাব দেয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কামরুল ও ফিরোজ সদস্য সংগ্রহ ও সংগঠনের কাজে টেকনাফে গমন করে। সে ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত নাজমুল, কাওছার এবং পলাতক সাকিব ও ফিরোজ এর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলত এবং সংগঠনের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। সে ফিরোজের কাছে সামরিক প্রশিক্ষনের কলাকৌশল শিখেছে। তাছাড়াও সে নিয়মিত জেএমবির সদস্যদের মধ্যে মৌখিক ভাষ্য এবং অর্থ আদান প্রদান এর কাজও করত।
এদিকে গত রমযান মাস উপলক্ষ্যে এক মত বিনিময় সভায় জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক আশংকা প্রকাশ করে বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ এবং আশেপাশের এলাকাতে শক্তিশালী জঙ্গি ঘাঁটি থাকতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা জঙ্গিবাদ আর মাদক। ঢাকা নারায়ণগঞ্জ এবং আশেপাশের এলাকাতে জঙ্গি ঘাঁটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি থাকে তা ধ্বংস করা হবে, শুধু সময়ের অপেক্ষা।’
আর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবকলীগের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ শামীম ওসমান বলেছিলেন, দেশে আগামীতে বড় ধরনের আঘাত আসবে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি যতবার ঐক্য গড়ে তোলার সৃষ্টি করি ততবারই ভাঙনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই এবার আমি উন্নয়ন ছেড়ে রাজনীতি করবো। খেলতে নামবো। কড়া খেলা হবে। কারণ পত্রিকায় খবর এসেছে আগামী এক বছরে দেশে জঙ্গী হামলা ও গণহত্যা হবে। কারণ একটা ষড়যন্ত্র চলছে এটা আগামীতেও চলবে। নারায়ণগঞ্জও এর বাইরে না। তিনি বেশ দৃঢ়কণ্ঠে কয়েকবার বলেন, ‘ইতোমধ্যে খেলা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। রূপগঞ্জে যেসব ভারী অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে সেটা একটা খেলারই অংশ।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জঙ্গীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠার আগেই তাদের নসাৎ করা হবে। জঙ্গীদের খোঁজ খবরে নারায়ণগঞ্জের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সক্রিয় রয়েছে। তাছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছে। সে সাথে নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে জঙ্গী দমনের জন্য সহযোগিতা কামনা করেছেন এসপি মঈনুল হক।

Leave A Reply