শীতলক্ষায় ডুবে যাওয়া শ্রমিক ৩০ ঘন্টা পর জীবিত উদ্ধার

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ডুবে যাওয়া এক শ্রমিককে ৩০ ঘণ্টা পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করেছে বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি। শীতলক্ষ্যার বন্দর উপজেলার ২নং ঢাকেশ্বরী সোনাচড়া এলাকায় অবস্থিত বিআইডব্লিউটিসির ডকইয়াডের সামনে ডুবে যাওয়া একটি ফেরীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি বাল্কহেড ডুবে সোহাগ (৩২) নামের ওই শ্রমিক নিখোঁজ ছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীতে টানা তৃতীয়বারের মত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার বাল্কহেড ডুবির ঘটনার পরে দিনব্যাপী বন্দর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল তল্লাশী চালালেও নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান পায়নি। বিআইডব্লিউটিসির ডুবন্ত জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গত কয়েক বছরে অন্তত ৭টি নৌযান ডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার শ্রমিকদের বরাত দিয়ে জানান, বুধবার সকালে বন্দর উপজেলার ২নং ঢাকেশ্বরী সোনাচড়া এলাকায় বিআইডব্লিউটিসির ডকইয়াডের সামনে ডুবে যাওয়া যশোর ফেরী নামের একটি ফেরীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে এমভি মুছাপুর নামের একটি বালুবোঝাই বাল্কহেড ডুবে সোহাগ (৩২) নামের এক গ্রীজার নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ সোহাগ নওগা জেলার শিকারপুর দোহারিকা এলাকার বাসিন্দা। ডুবে যাওয়া এমভি মুছাপুর নামের বাল্কহেডটির মালিক কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার নলচর এলাকার অলিউল্লাহ। বালুবাহী বাল্কহেডটি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া বালু বোঝাই করে রূপগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। ডুবন্ত ফেরীর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বালুবাহী বাল্কহেডটি ডুবে যাওয়ার পরে বাল্কহেডটিতে থাকা অন্যান্য শ্রমিকরা সাতরে তীরে উঠতে পারলেও গ্রীজার সোহাগ নিখোঁজ ছিল। ওই ঘটনার পরে বন্দর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরী দল, বন্দর থানা পুলিশ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশ থানা ও বিআইডব্লিউটিএকে খবর দেয়া হয়। পরে বন্দর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল দিনব্যাপী তল্লাশী চালালেও নিখোঁজ শ্রমিকের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার টানা তৃতীয় বারের মত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিকেলে ৩০ ঘন্টা পর তাকে জীবিত উদ্ধার করে। নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহের খান জানান, টানা ৩০ ঘন্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে ডুবন্ত বাল্কহেডের ভেতর থেকে। এখন সে সুস্থ আছেন। আহত শ্রমিকের চাচা মোবারক হোসেন জানান, আমরা বুধবার দিনব্যাপী চেষ্টা চালানোর পর যখন তাকে উদ্ধার করতে পারেনি তখন আজকে সকাল থেকেই অনুরোধ করছিলাম যেন অন্তত আমাদেরকে লাশটি উদ্ধার করে দেয়া হয়। পরে বিকেলে সোহাগকে জীবিত উদ্ধার করা হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। উদ্ধার হওয়া শ্রমিক সোহাগ জানান, আমি ডুবে যাবার পর থেকেই ইঞ্জিন রুমে আটকা পড়ি। আমি সেখানে শুধুই আল্লাহর নাম জপছিলাম। আল্লাহ আমাকে উদ্ধার করিয়েছেন। আমি সারারাত আল্লাহর নাম নিয়েছি, বিকেলের দিকে আমার জ্ঞান যায় যায় অবস্থা এমন সময় আমাকে উদ্ধার করে ডুবুরি। উদ্ধার করা ডুবুরি মাসুম জানান, আমি উদ্ধার করতে গিয়ে শুধু শুনতে পাই লোকটি আল্লাহর নাম নিচ্ছে, আমি তাকে উদ্ধার করে তুলেই বুকে চেপে রাখি যেন সে গরম পায় কারণ তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। পরে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। বন্দর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর হাসিব আকন্দ দিপু জানান, ৫ জন শ্রমিকের মধ্যে ৪ জন সাতরে তীরে উঠতে পারলেও একজন নিখোঁজ ছিল। তাকে বিকেলে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

 

Leave A Reply