মালা-পাকনা টিপু আ’লীগ বিএনপির দুই বিষফোঁড়া

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা দুই দলের দুই বিষফোড়া বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যসহ নিজেদের ব্যাক্তি স্বার্থ হাছিল করার জন্য বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু ও আওয়ামীলীগ নেত্রী মাহমুদা মালা ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন। দলের মধ্যে বিভাজনের সৃষ্টির লক্ষ্যে উভয় দলের দায়িত্বশীল এ ধরনের নেতৃত্ব বিষফোঁড়ায় পরিনত হয়েছে তৃনমূল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে। বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী এ ধরনের নেতাদের দায়িত্বহীন বক্তব্যে দলীয় ভাবমূতি ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি এর প্রভাব তৃনমূল রাজনীতিতে পড়ছে বলেও দলগুলোর সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মনে করেন। তাই বিতর্কিত এ সকল নেতা কিংবা নেত্রীদের চিহ্নিত করে দলের দায়িত্বশীল কর্তাব্যাক্তিরা দলীয় নীতি মালায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া অতি জরুরী বলে মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অণ্যথায় দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার শংকা করেন তারা।

সূত্রে জানা যায়, বর্তমান মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু বিভিন্ন সময়তেই দলের বিরুদ্ধে অবস্থান এমনকি দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার মাধ্যমে মিডিয়ায় আলোচিত হয়ে উঠেন। ২০১১ সালে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা নাজমুল হুদার বিএনএফে যোগদানের পর পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু। পরে নিষ্কিয় বিএনএফ থেকে মহানগর পৌর বিএনপির বিদ্রোহী সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম সর্দারের কাধে বর করে পূনরায় বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন টিপু। ঐ সময়ে বর্তমান মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন টিপু। বিভিন্ন সভা সমাবেশে আবুল কালামকে নিয়ে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে লাইম লাইটে চলে আসেন। এরপর থেকে মিডিয়ায় আলোচনায় আসার জন্য তথ্য প্রমানদি ছাড়াই দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানের ফলে দলের জন্য বিষফোড়াঁয় পরিনত নয় পাকনা টিপু এমনটাই দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ। সর্বশেষ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খাঁন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করার জন্য ওসমান পরিবারের কাছ থেকে কোটি টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল আল ইউসুফ খাঁন টিপু। টিপুর এমন বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও প্রকাশিত হওয়ার পর আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। তবে আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপুর এমন অভিযোগের কোন সঠিক তথ্য দিতে না পারলেও নিশ্চুপ থাকেন দলের হাই কমান্ড। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে ফতুল্লার ইসদাইর বুড়ীর দোকান এলাকায় মহানগর বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপুসহ তার সহযোগী এড.রফিকুল ইসলামকে অজ্ঞাত দুবৃত্তরা মারধর করেন বলে অভিযোগ তুলা হয়। তবে বিএনপি নেতা টিপুর এমন অভিযোগ কতটুকু সত্য তা নিয়ে স্থাণীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গরা প্রশ্ন তুলেন? নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, মহানগর বিএনপি নেতা টিপুর উপর হামলার বিষয়টি কতটুকু সত্য তা আমাদের জানা নেই! কেননা’ অতীতেও টিপু মিডিয়ায় আলোচনায় আসার জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। আর ইসদাইর এলাকায় টিপুর উপর হামলার বিষয়টি মিডিয়ায় লাইম লাইটে আসার জন্যই হামলার নাটক মঞ্চস্থ করতে পারে বলে তাদের ধারনা।

এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবি ফোরামের সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবীর বলেন, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইতিমধ্যেই দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে মিথ্যাচার করার মাধ্যমে মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছেন। তবে মিডিয়ার খোরাক হওয়ার জন্য যদি টিপু মিথ্যাচার করে থাকেন তাহলে টিপু যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে তেমনি দলের উপরেও এর প্রভাব পড়বে।

অপরদিকে গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা। যুব মহানগন মহিলালীগের পাল্টা পাল্টি কমিটিকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ফেসবুকে আইডিতে দলের সিনিয়র নেতাসহ ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যে ইতিমধ্যেই মিডিয়ার খোরাক হয়েছেন তিনি। সর্বশেষে এক অজ্ঞাতস্থানে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড.খোকন সাহা এবং মহিলা নেত্রী মাহমুদা মালা নারায়ণগঞ্জের দুই সাংসদদ্ধয়কে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যে সমলোচনার ঝড় বয়ে যায় দলটির নেতৃবৃন্দের মাঝে। মাহমুদা মালা এবং খোকন সাহার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রকাশ পাওয়ার পর পরই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ তাদেরকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেছেন। এমনকি দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তাদের বহিষ্কারেরও দাবি জানিয়েছেন। নেত্রী মাহমুদা মালার দায়িত্বহীন বক্তব্যে দ্ধিধাবিভক্তিতে পড়েছে দলটির তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বিতর্কিত এ সকল নেতা কিংবা নেত্রীদের দলের জন্য বিষফোঁড়া বলে আখ্যায়িত করেছেন। দলের ভবিষৎ রাজনীতি শৃংখলাবদ্ধ এবং দলের স্বার্থের কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এ সকল বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা তৃনমূলের। অবশ্য, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা কথোপকথনের অডিও রেকর্ডের বিষয়টি অস্বীকার করে তার কন্ঠ নকল করা হয়েছে বলে দাবি করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গ, গত কয়েক বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা.সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে দুর্নিতীর অভিযোগ এনে প্রতিবাদ মিছিল করেন মাহমুদা মালা। এ সময় তিনি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী এবং যুবলীগ নেতা আবু সুফিয়ানকে নিয়ে কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য করলেও বর্তমান নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই মেলা নিজের দোষ আড়াল করার জন্য এবার শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, স্বার্থ হাছিলের জন্য শামীম ওসমান ছেলেদের রাজাকারের সন্তান এবং মেয়েদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। মালা যুব মহিলা লীগের প্লাটিপ্লাটি কমিটি নিয়ে লিন্ডা সন্ধ্যাকে করা মন্তব্যকে নিয়ে বলেন নারী নেত্রীদের কোন খারাপ মন্তব্য করলে তাদের ছাড় নেই। কারন আমিও একজন নারী নেত্রী। আমি নারীদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। নারায়ণগঞ্জবাসী ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠেছে। অতিতে মেয়র আইভীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ন বক্তব্য দেওয়াটা কি নারীদের পাশে থাকার ভূমিকায় পরে। তাহলে মেয়র আইভী কি মাহমুদা মালার দৃষ্টিতে একজন নারী নন। নাকি এই বহুরুপী মালা নিজ স্বার্থ হাসিল করতে কখনো মেয়র আইভী কখনো শামীম ওসমানকে পুঁজি করে হাইলাইডস হচ্ছেন।

 

 

Leave A Reply