বিতর্কিত নিয়ে কতদূর পাড়ি দিতে পারবে না’গঞ্জ বিএনপি?

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে বিপাকে রয়েছে সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ক্ষমতাসীনদলের নেতাদের সথে আতাঁত রেখে নীজ স্বার্থ হাছিল করার লক্ষ্যে অবজ্ঞা করে চলেছে দলের প্রান তৃণমূলকে। তৈমূর আলমের সেন্টু, কালামের মুকুল আর শাহ আলমের আজাদ বিশ্বাসকে নিয়ে তৃণমূল রয়েছে দারুণ বিপাকে। প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে চলা এই ত্রিরতœকে বগল দাবা করে কতদূর পারি দিতে পারবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি? এছাড়াও ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ খ্যাত ওই ত্রিরতেœর চারিত্রিক গুলাবলী ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি তাদের তিনজনকেই তৃণমূল এখনঅব্দি মেনে নিতে পারছেন না। এ নিয়ে দলের ভেতরই ক্ষোভ রয়েছে।সূত্র বলছে, বিগত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এ দলটি ক্ষমতায় আসার পর থেকে অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলা-হামলাসহ কারাভোগও করেন। কিন্তু ব্যতিক্রম থেকে যায় দলটির কিছু কতিপয় নেতা, যারা বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে দলীয় প্রভাবে সব থেকে বেশি সুবিধা আদায়কারী হিসেবে চিহ্নিত। তারা এ পর্যন্ত জেল খাটা তো দূরের কথা কোনো মামলার আসামীও হয়নি। বরং আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে নানা সুযোগ সুবিধা লুফে নিচ্ছেন আবার বিএনপিতে ভাই এবং সম্বন্ধির বদৌলতে বড় বড় পদও বাগিয়ে নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনত্যম হচ্ছেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। এরমধ্যে আজাদ বিশ্বাস ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ আলমের সম্বন্ধি। মূলত শাহ আলমের ছায়াতেই তিনি এখনও পর্যন্ত বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে আছেন। দ্বিতীয়জন আতাউর রহমান মুকুল হচ্ছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুল কালামের ভাই। মূলত তিনি আবুল কালামের বদৌলতে বিএনপির বড় একটি পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। সূত্র বলছে এই দুই নেতা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত করে চলছেন। তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাও ভোগ করে যাচ্ছেন। এছাড়া বিগত দিনে বিএনপি ঘোষিত কোনো কর্মসূচিতেও তাদের দেখা যায়নি। যার কারণে বিগত দিনে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এমনকি তারা বিগত দিনে একবারের জন্যও কারাগারে যায়নি। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিএনপির ছোট বড় মাঝারি বহু নেতার বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধীক মামলা। অনেকে একাধীকবার জেলও খেটেছেন। আবার কেউ কেউ এখনও জেল খাটছেন। শুধু তাই নয়, আজাদ ও মুকুলকে প্রায় সময় আওয়ামী লীগের সাংসদ ও নেতাদের সাথেই এক মঞ্চে বসতে দেখা গেছে। সেই সাথে ওসব মঞ্চে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা ধরণের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন ক্ষমতাসীনরা। এমনকি একবার একটি সভা মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা গোপিনাথ দাস জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ বলেও গালি দেন। আর সেই সময় ওই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আজাদ ও মুকুল। কিন্তু তারা কেউ প্রতিবাদও করেনি। এছাড়াও এই দুই নেতাকে প্রায় সময় দেখা গেছে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী কিংবা জন্ম বার্ষিকী পালন না করে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে ছুটে গেছেন তেল মর্দন করার জন্য। এরমধ্যে গেল বছর জিয়াউর রহমানের জন্ম বার্ষিকী অনুষ্ঠান পালন না করে ওই দুই নেতা ছুটে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মিষ্টিমুখ করাতে। এদিকে একবার কুকুর গালি দেওয়া আরেকবার আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ছুটে যাওয়ার ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভেতরে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তাদের দুজনকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছিল তৃণমূল থেকে। কিন্তুএসব ঘটনায় তাদেরকে কোনো শাস্তি না দিয় বরং নতুন করে জেলা ও মহানগর কমিটিতে বড় দুটি পদে বসানো হয়েছে। আর এ নিয়ে তৃণমূলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। অপরদিকে তাদের মত একই অবস্থায় রয়েছে কুতুবপুর ইউনিয়ম পরিষদের চেয়াম্যান মনিরুল আলম সেন্টুও। তৃতীয়বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে তৈরি হয় তার সখ্যতা। একই মঞ্চে সভা সমাবেশ করছেন। শামীম ওসমানের পক্ষেও তিনি বক্তব্য রাখছেন। যার ফলে তিনি ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ হিসেবে বিএনপির মধ্যে পরিচিত লাভ করেছেন। তবে সেন্টু সমর্থকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি বিএনপির শাহ আলম তাকে দল থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য নানা রকম কলাকৌশলের আশ্রয় নেয়ার কারণে তিনি আওয়ামী লীগ ঘেঁষা হতে বাধ্য হয়েছেন। কেননা, শেষবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শাহ আলম তাকে সমর্থন না দেয়া তিক্ততা আরও বেশি ঘনিভূত হয়। মূলত সেসময় তিনি আওয়ামী লীগের একটি অংশের সমর্থন ও স্থানীয় মানুষের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেন এবং নির্বাচিত হন। এছাড়াও বর্তমান যে কমিটি গঠন হয়েছে এখানে অনেক অযোগ্যদের স্থান হলেও সেন্টুকে মাইনাস করা হয়েছে। তাছাড়া তাকে মাইনাসসহ বিএনপিতে কোণঠাসা করে রাখার জন্য একের পর এক কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়েই যাচ্ছেন শাহ আলম। মূলত এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে সেন্টুকে কাছে টেনে নিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার। এদিকে বর্তমানে তৈমূর আলম খন্দকার সেন্টুকে কাছে টেনে নিয়ে রাজনীতির মাঠে নেমেছেন। তারা আগামীতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে বিভেদ সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত কজনকে সায়েস্তাও করতে চাইছেন। তবে এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে বিভেদ রয়েছে। অনেকেই সেন্টুকে মেনে নিতে পারছেন না। যদিও সেন্টু বিগত দিনে তথা গত আট বছরে বেশ কিছু মামলার আসামী। সম্প্রতি একটি নাশকতার মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। তৃণমূল মনে করছেন আজাদ-মুকুল-সেন্টু এই তিনজনই এখন বিএনপির জন্য বিষফোঁড়া। কেননা, তারা তিনজনই দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ হিসেবে খ্যাত। সহজে তাদেরকে মেনেও নিতে পারছেন না তৃণমূল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই তিনজনকে নিয়ে আগামীতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কতটা দূর যেতে পারবে? ভোটের মাঠেই বা তারা কতটা অবদান রাখতে পারবে? তাই তাদেরকে দল থেকে পরিহার করাটাই শ্রেয় বলে মনে করছে তৃণমূল।

 

Leave A Reply