বিএনপি’র রাজনীতিতে ফ্যাক্টর জাকির খান গ্রুপ আবারও উজ্জীবিত

0

বিশেষ প্রতিনিধি, বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নারায়নগঞ্জে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত এবং সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হচ্ছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান গ্রুপ। সম্প্রতি বিএনপি’র অংগ-সংগঠনের কয়েকটি কমিটিতে জাকির খান গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়া নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছে। যার ফলে পূর্বের চেয়ে খান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মনোবল উজ্জীবিত হয়ে ওঠেছে। বর্তমান সময়ে রাজণৈতিক ময়দানে জাকির খান গ্রুপের নেতাকর্মীদের অংশ গ্রহন ব্যাপক ভাবে আলোচিত হচ্ছে। মতভেদ এবং অভিমান করে রাজনীতি থেকে নিঃস্ক্রিয় থাকা এক সময়ে যারা বিএনপি’র রাজনীতির দক্ষিন মেরুর আলোচিত নেতা জাকির খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিল তারা আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে। তবে রাজণৈতিক কর্মসূচি গুলোতে জাকির খানের বন্ধুমহলের দেখা মিললেও দলীয় কোন পদবিতে তারা নেই। শুরু থেকেই বিএনপি নেতা মনির খানের তত্ত্বাবধানে জাকির খান গ্রুপে শ্রমিক দলের নুর ইসলাম, ছাত্রদলের লিংকন খান, জাহাঙ্গীর আলম রতন, যুবদলের পারভেজ মল্লিক, জিয়াউর রহমান জিয়া নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। গেল বছর এবং সম্প্রতি কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপি’র অংগ সংগঠনের কমিটিতে নারয়নগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পদে এক সময়ে তৈমুর অনুসারি হিসেবে পরিচিত পারভেজ মল্লিক, সহ সাধারন সম্পাদক পদে দেলোয়ার হোসেন শাহ, জেলা ছাত্রদলে যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রাকিব হাসান রাজ, মহনগর কমিটিতে যুগ্ন- সাধারন সম্পাদক পদে লিংকরাজ খান, ইব্রাহীম আহমেদ বাবু, মহানগর মৎস্যজীবী দলে আহবায়ক হিসেবে সাবেক ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম রতন, সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক পদে জাকির খানের চাচাতো ভাই মনির খানের পুত্র সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা লিংকন খান পেয়েছেন সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক পদ, যুগ্ন আহবায়ক পদে যথাক্রমে এ্যাডঃ রাজিব মন্ডল, শাহিন আহমেদ,হাজী মোঃ সোহেল,মীর মোঃ রাজি,একই সংগঠনের জেলা কমিটির সদস্য সচিব পদে জাকির খানরে অনুসারী আমিনুল ইসিলাম,যুগ্ন আহবায়ক পদে এইচ.এম. হোেেসন, রিপন সিকদার. মফিজ মহানগর শ্রমিকদলে যুগ্ন আহবায়ক মন্টু, সহিদ, বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের জিয়াউর রহমান জিয়া যুগ্ন-আহবায়ক পদবী পাওয়ার ফলে খান গ্রুপ নারায়নগঞ্জে বিএনপি’র রাজনীতিতে এখন ফ্যাক্টর।উল্লেখ্য,২০১৭ সাল পর্যন্ত সাবেক এমপি আলহাজ¦ এ্যাডঃ আবুল কালাম অনুসারি ছিলেন জাকির খান গ্রুপ।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬ তম শাহ্দাাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তৎকালিন সময় ২৫ রমজান মহানগর শ্রমিকদল নেতা নুর ইসলাম সাবেক এমপি আলহাজ¦ এ্যাডঃ আবুল কালাম কে প্রধান অতিথি করে ডায়মন্ড সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকার গরীবদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরন করেছিল। জাকির খানের চাচা মনির খানও কালাম পন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ছিলেন না শুধু এ্যাডঃ সাখাওয়াত হোসেন খান। কিন্তুু গঠিত মহানগর শ্রমিকদলে রাজনৈতিক অব-মূল্যায়নের কারনে শারিরিক অসুস্থ্যতার অযুহাতে দু’বছর রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় থেকে আবার খান গ্রুপে ফিরে এসে এবার জাকির খানের নির্দেশনায় সাবেক এমপি এ্যাডঃ আবুল কালাম বিরোধী শীর্ষ নেতা। মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডঃ সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রধান অতিথি করে একই স্থানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম শাহ্দাাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরন করলেন দীর্ঘদিন অসুস্থ্য থাকা শ্রমিকদল নেতা নুর ইসলাম। একই রূপায়ন এক সময়ে তৈমুর অনুসারি হিসেবে পরিচিত পারভেজ মল্লিকের ক্ষেত্রে। বর্তমানে জাকির খান গ্রুপে পারভেজ মল্লিক, জাহাঙ্গীর আলম রতন, আমিনুল ইসলাম, নুর ইসলাম, লিংকন খান , রাকিব হাসান রাজ বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাডঃ তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলার আসামী হয়ে দেশ ত্যাগ করার পর জাকির খান গ্রুপের নেতাকর্মীরা কয়েক বছর রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় ছিল। ২০১১ সালে নারায়নগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষাবলম্বন করার অভিযোগে বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম সরদারের সাথে এ্যাডঃ তৈমুর আলম খন্দকার ও সরদারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মরহুম জাহাঙ্গীর কমিশনারের সাথে বেরী সর্ম্পকের সূচনা ঘটে। নির্বাচনে নুরু ইসলাম সরদার পারজিত হওয়ার পর পৌর নির্বাচন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে শুরু হয় গ্রুপিং। নগর বিএনপিতে সরদার ও জাহাঙ্গীর কমিশনার গ্রুপের আতœপ্রকাশ ঘটে।বটবৃক্ষ রূপে সাবেক এমপি এ্যাডঃ আবুল কালাম এবং ্এ্যাডঃ তৈমুর আলম খন্দকার দু’টি গ্রুপকে ছায়াতলে আশ্রয় দেয়।কমিটি গঠন নিয়ে সরদার ও জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনাও ঘটে। সন্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত জাহাঙ্গীর কমিশনার ও এটিএম কামালের বিপরীতে নুরুল ইসলাম সরদার ও এ্যাডঃসাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে গঠন করা হয় পাল্টা শহর কমিটি।সাংগঠনিক শক্তি ও লোকবল বৃদ্ধি করতে এরই মধ্যে জাকির খান গ্রুপকে কাছে টেনে নেয় সাবেক এমপি আবুল কামাল।আর এ মহামিলনে যুক্ত হয় এক সময়ে জাকির খানের ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রদল নেতা টিপু। জাকির খান গ্রুপের পক্ষ হয়ে অতীতের শক্রতাকে বিসর্জন দিয়ে মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হয় জাকির খান ও টিপু। এরই মধ্যে শহর বিএনপিতে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ওর্য়াড কমিটি গঠনের প্রতিযোগিতা। জাকির খানের নির্দেশে তার বিশাল কর্মী বাহিনী কালাম-সরদার-সাখাওয়াত গ্রুপে যোগ দেয়ায় সে সময় বিএনপির রাজনীতিতে এক রকম কোনঠাসা হয়ে পড়ে তৈমুর-জাহাঙ্গীর-এটিএম কামাল গ্রুপ। নুরু ইসলাম সরদার রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়লে গ্রুপি শক্তিতে দুর্বল হয়ে পড়েন কালাম-সাখাওয়াত।তারপর এক এগারোতে সংস্কারপন্থী এবং বিএনপি ভেংগে নতুন দল বিএনএফ’র গঠনের ইতিহাস বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জ্ঞাত। এক এগারোতে যারা সংস্কারপন্থীদের নাজেহাল করেছিলেন এবং যিনি বিএনপি’র চার নেতার জানাজায় অংশ গ্রহন না করার ওয়াদাবদ্ধ কল্পে ওসিয়ত করেছিলেন তা এখন সাড়ে তিন হাতে পতিত হয়ে বেহায়াপনার উক্তি তুলেছে রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই। গেল নাসিক নির্বাচনে অসহযোগীতার অভিযোগে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী এ্যাডঃ সাখাওয়াতের সাথে সাবেক এমপি আবুল কালামের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এ্যাডঃসাখাওয়াত বিএনপির রাজনীতিতে নিজ বলয় তৈরীর কর্মকান্ড চালিয়ে সফল হন। মহানগর বিএনপি’র কমিটিতে জাকির খানকে স্থান দেয়ায় দাবী ওঠলে সেটা নাকচ করে দেয়ায় কালাম গ্রুপ ত্যাগ করে এ্যাড ঃ সাখাওয়াতের নেতৃত্বে পৃথক গ্রুপে যোগ দেয় জাকির খান গ্রপ। শক্তিশালী হয়ে ওঠে সাখাওয়াত গ্রুপ। উল্লেখ্য, মহানগর বিএনপি’র কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার তালিকায় জাকির খানের নাম প্রস্তাব করে সাবেক এমপি এ্যাডঃ আবুল কালামের নিকট প্রেরণ করেন এ্যাডঃ সাখাওয়াত। এর ফলে খান গ্রুপের নেতাকর্মীদের নিকট জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এ্যাডঃ সাখাওয়াত। আর জাকির খান ইস্যুতে “রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই” প্রবাদটিকে আবারো রূপায়িত করলেন এ্যাডঃ তৈমুর আলম খন্দকার। এ্যাডঃ সাখাওয়াতকে রাজণৈতিক ভাবে ঘায়েল করতে “ঘরকুনো” খ্যাতি দেয়া সাবেক এমপি এ্যাডঃ আবুল কালামের সাথে শত্রুতা ভুলে মিত্রতা গড়ে তুললেন এ্যাডঃ তৈমুর আলম। নগর বিএনপিতে নতুন করে শুরু হলো দুই খান বানাম তৈমুর-কালাম গ্রুপের অগ্নিপরীক্ষা।
গত বৃহস্পতিবার আদালত পাড়ায় এ দুই নেতা তাদের মিত্রতা আরো দৃঢ়তায় রূপ দেন। আর এ নিয়ে আদালতপাড়া বিএনপি পন্থী আইনজীবী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তৈমূরপন্থী এক আইনজীবীর সাথে কালামপন্থীর মধ্যে বাকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। তবে তৈমুর আলমের হস্তক্ষেপে বিষয়টি বেশীদূর এগোয়নি। আদালত অংগনের জনপ্রিয় আইনজীবী বারের পরপর দুইবার নির্বাচিত সভাপতি এ্যাডঃ সাখাওয়াতকে রাজণৈতিক ভাবে কোনঠাসা করতে তৈমুর আলমকে প্রধানবক্তা এবং আবুল কালামকে বিশেষ অতিথি করে আদালত চত্বরে আয়োজন করা হয় দুঃস্থদের মাঝে ঈদ খাদ্য বিতরন অনুষ্ঠান। তবে ওই অনুষ্ঠনে ১০/১৫জনেরও কম সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিল।নগর বিএনপিতে দুই খান এ্যাডঃ সাখাওয়াত খান ও জাকির খানের বিশাল কর্মী বাহিনী এবং সাংগঠনিক ও রাজণৈতিক শক্তিকে মোকাবেল করতে পারবেন তৈমুর-কালাম ? এ প্রশ্ন এখন নারায়নগঞ্জের বিএনপির শিবিরে চাউর হচ্ছে। ঈদের পর শহরে বিএনপি’র রাজনীতিতে কোন গ্রুপটি পরস্পরের কাছে কুপোকাত হবে তা দেখার অপেক্ষায় রাজণৈতিক বোদ্ধারা।

0 Shares
শেয়ার করুন.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.