বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতা নেই কেনো ?

0

মন্তব্য প্রতিবেদন.হাবিবুর রহমান বাদল

নারায়নগঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকরা চরম তথ্য বিভ্রাটের মধ্যে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে চলেছে। আর এর খেশারত হিসেবে পান থেকে চুন খোশলেই রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্যসহ পেশাদার সাংবাদিকদের মামলাসহ বিভিন্ন কায়দায় হয়রানি করে চলেছে। সঠিক তথ্য না পাওয়ার কারনে মাঝেমধ্যেই বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ পেশাদার সাংবাদিকরা তথ্য র্নিভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি কিংবা র্কতৃপক্ষের ভাষ্য নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ক্ষেত্রে তারা র্ব্যথ হচ্ছে। সরকার তথ্য প্রযুক্তি সহজিকরণের লক্ষ্যে সকল ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। অবাধ তথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে একাধিক সুযোগ সুবিধাসহ সঠিক সংবাদ পরিবেশনের স্বার্থে মিডিয়া কর্মীরা যেকোন তথ্য চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সরবরাহে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের উপর নির্দেশ রয়েছে। কারন অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগে কেউ যাতে বিকৃত তথ্য মিডিয়া কর্মীদের সরবরাহ করে পার না পেয়ে যায় এই জন্য তথ্য অধিকার আইনও প্রনয়ন করা হয়েছে। কিন্তু ইদানিং নারায়ণগঞ্জে প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারী ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা ,এমপি এবং সিটি মেয়রের সেই ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম যে নেই তা সঠিক না। গত শনিবার রাতে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নিজেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী দাবি করে। পুলিশ তাকে আটক করে চিকিৎসা দেয়। সন্ধ্যায় আটককৃত আব্দুল্লাহ পরিচয়দানকারীর পিতা মোক্তার হোসেন পুলিশকে জানায় খানপুরে আটককৃত আব্দুল্লাহ রোহিঙ্গা শরনার্থী নয়। সে মানসিক প্রতিবন্ধী। মোক্তার হোসেন জানায় আটককৃত আব্দুল্লাহ আসলে তার পুত্র ফতুল্লা থানার কাশিপুরের বাসিন্দা। ততক্ষনে কথিত রোহিঙ্গা শরনার্থী আব্দুল্লাহকে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে আব্দুল্লাহর পরিচয় মানসিক প্রতিবন্ধী মাহাবুব রোহিঙ্গা ভাষা কিংবা বাংলা ভাষায় কথা না বলে অনর্গল হিন্দি ভাষায় কথা বললেও পুলিশ বিষয়টি নিয়ে একবারও চিন্তা করেনি। মাহাবুবের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর রাতেই পুলিশ তাকে নারায়ণগঞ্জ ফিরিয়ে আনে। ততক্ষনে নারায়ণগঞ্জে রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে এমন আতংক ছড়িয়ে পরলে পেশাদার কিছু সাংবাদিক নিশ্চিত হয় সে রোহিঙ্গা নয়। রাত আট টায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাথে আমি ব্যাক্তিগতভাবে আলাপ করলেও তিনি রহস্যজনক কারনে সংবাদটি নিশ্চিত করেননি। সদর থানার ওসির ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে বিফল হয়ে পুলিশ সুপারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের পর রাত সাড়ে আটটায় তিনি ফোন ধরেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে। ততক্ষনে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার স্ক্রলে শরনার্থী প্রবেশের খবরটি চলছিল। বিভিন্ন অনলাইনে নারায়ণগঞ্জে রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রবেশ করছে এমন সংবাদও আপলোড হয়ে যায়। যে কারনে এতকথা বলা তা হলো জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ রোহিঙ্গা নয় এমন তথ্য জানানো হলে বিষয়টি এতোটা ঘোলাটে হতো না। কোন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ তিলকে তাল বানিয়ে সংবাদ কর্মীদের কাছে প্রকাশ করে। আবার কখনও কখনও হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগও সংবাদকর্মীদের কাছে করা হয়। পাশাপাশি কিছু নামধারী অনলাইনের বিড়ম্বনায় কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা বুঝে উঠা মুশকিল হয়ে পরে। যে কারনে পেশাদার সাংবাদিকরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিসি কিংবা এসপির অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করে। সেক্ষেত্রে সংবাদকর্মী টেলিফোন রিসিভ না করলে সংবাদটি ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। একই অবস্থা এমপি, মেয়র, সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাদের ক্ষেত্রেও বলা চলে। এমপি ও মেয়রদের বক্তব্য পাওয়াতো এখন আকাশের চাদ হয়ে দাড়িয়েছে। তারা সহজে ফোন রিসিভ করেন না। রাজনৈতিক নেতাদের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তারা টেলিফোন ধরে বক্তব্য দিলেও পরদিনই সেই সংবাদ মনপুত না হলে আলাপচারিতার কথা সোজা অস্বীকার করে বসে। এই অবস্থার দ্রুত অবসান ঘটার উচিত বলে আমি মনে করি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের সহায়তাই পারে সৎ সাংবাদিক সৃষ্টি করতে। পেশাদার সাংবাদিকরা প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের প্রতিপক্ষ নয়। সুষ্ঠ ও সত্য সংবাদ পরিবেশনের স্বার্থেই পেশাদার সাংবাদিকদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। এক্ষেত্রে একটি অনলাইন শুভ্র হত্যার ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সাফল্যকে তুলে ধরে প্রমান করেছে পেশাদার সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষও নয় কারও স্থায়ী বন্ধুও নয়। ভুলে গেলে চলবে না কোন পেশাদার সৎ সাংবাদিকের স্থায়ী কোন বন্ধু থাকেনা।

 

Leave A Reply