ফতুল্লা মডেল থানার মাসিক অপরাধ হাল চিত্র

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

ফতুল্লা মডেল থানার মাসিক অপরাধ হাল চিত্রে গত আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসে ৬১ দিনে মোট মামলা রুজু হয়েছে ২শ২টি। দুই মাসে মোট ২৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮শ‘ টাকার বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এই দুই মাসে মোট অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে ১১টি।

ফতুল্লা মডেল থানার আইন শৃঙ্খলা জেলা অন্যান্য থানার চেয়ে অনেক উন্নতি এবং ওয়ারেন্ট তামিল সবার শীর্ষে এমনটাই জানা যায় পুলিশ এর একটি সূত্রে। ফতুল্লা থানাধীন মোট ২৫ টি স্পর্টে সনাতন ধর্মের সব চেয়ে বড় উৎসব ও শারদীয় দুর্গা পূজায় পুলিশ যথেষ্ট তৎপরতার মধ্যে দিয়ে আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। মুসলামানদের দ্বিতীয় উৎসব ঈদুল আযহার কোরবানীর হাট গুলো প্রশাসনিকভাবে যথেষ্ট তৎপরতার মধ্যে দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ তাদের আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। অত্যান্ত কড়া নিরাপত্তার চাঁদরে ঢাকা ছিলো গত মাসের সুমলমান ও হিন্দুদের পৃথক দু‘টি বড় উৎসব ঘিরে ফতুল্লার পাড়া মহল্লাগুলো।

ফতুল্লা মডেল থানার স্টেটম্যান অফিসার এএসআই রফিকুল ইসলাম জানান, ফতুল্লা মডেল থানায় গত আগষ্ট মাসের ৩১ দিনে মোট বিভিন্ন অপরাধে মোট মামলা রুজু হয়েছে ১০৮ টি। এবং অপমৃত্যু মামলা হয়েছে ৭টি । এই মাসে ইয়াবা ট্যাবলেট ৫০২১ পিস হেরোইন ৪১.৫ গ্রাম ,গাঁজা কেজি ২৫০ গ্রাম। মোট ১৯ লক্ষ ৪৭ হাজার৫শ৫০ টাকার মাদক উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। জি.আর ওয়ারেন্ট তামিল ৮০টি, সি.আর ওয়ারেন্ট তামিল ৪৫ টি এবং সাজা প্রাপ্ত আসামী ৫টি গ্রেপ্তার করেন। মাদক সেবন ও সন্দেহ জনক মনে হওয়ায় গ্রেপ্তারকৃতদের তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা প্রদান ৩৭ টি।
আগষ্ট মাসের ১০৮টি মামলা গুলো হলো,মাদকের ৮১টি, মারামারি (আদার সেকশন) ১৩টি,ধর্ষন মামলা ১টি, চুরি মামলা ৪টি, অপহরন,নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতনসহ মোট ৪টি।

সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ দিনে বিভিন্ন অপরাধে থানায় মোট মামলা রুজু হয়েছে ৯৪ টি।এই মাসে সাত লক্ষ নব্বই হাজার দুইশ পঞ্চাশ টাকার মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ। মামলাগুলো হলো: মাদক মামলা ৫৭টি ,মারামারি (আদারসেকশন) ১৫টি,অস্ত্র মামলা ১ টি, নারী নির্যাতন যৌতুক, অপহরনও শিশুনির্যাতনসহ মোট ১৩টি,ধর্ষন মামলা রুজু হয়েছে ৩টি। এই মাসে ইয়াবা ট্যাবলেট ১১৭৫ পিস,হেরোইন ২২.৫ গ্রাম, ফেন্সিডিল ২শ‘ বোতল,বিয়ার ৪১ ক্যান,গাঁজা কেজি ২৫০ গ্রাম এবং বিদেশী মদ প্রায়ই সাড়ে তিন লিটার উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেপ্টেম্বর মাসে ফতুল্লা থানা দুই লড়াকু অফিসার এস, আই মিজানুর রহমান-২ এবং এএসআই কামরুল হাসান বদলী হওয়ায় আগের তুলনায় মাদক ও ওয়ারেন্ট তামিল কম হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্রে জানাযায়। তাদের শূন্যতা পুরন করতে এস আই কাজী এনামুল হক এএসআই তারেক আজিজ কে এবং এস,আই শাফীউল আলম এএসআই আ. গাফ্ফার তালুকদার কে ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদক এর জন্য স্পেশাল ডিউটিতে রাখেন অফিসার ইনচার্জ মো. কামালাউদ্দিন।

অপরদিকে, এস,আই মোজাহারুল ইসলাম,এস,আই নাজনীন আক্তার তাদের ডিউটিতে মাদক ধরা এবং ওয়ারেন্ট তামিলে কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। গত আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মোজাহারুল ইসলাম হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে এবং মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করেছে। তিনি জি,আর,এবং সি.আর বেশ কয়েকটি ওয়ান্টে তামিল করেছেন বলে পুলিশ জানান। এছাড়া এস.আই দিদারুল আলম,অটলদাস,নাজির রহমান,রাজু মন্ডল, সাইফুল ইসলাম,আব্দুস সবুর খানসহ কয়েক জন অফিসার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে পুলিশের সুত্রে জানাযায়।

এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল উদ্দিন জানান,পুলিশের কাজে না পারার কিছু নেই। তবে কামরুল হাসান ও মিজানের ফতুল্লার মাদকসহ নানা অপরাধীদের সম্পর্কে সোর্স ভালো থাকায় তারা বেশ কাজ করেছে। তারা দুইজন এক সাথে চলে যাওয়ায় একটু আগের তুলনায় এই মাসে কাজ কম হয়েছে। তবে সব ঠিক হয়ে যাবে। যাদের আমি দায়িত্ব দিয়েছি আশা রাখি পুলিশী আইনের মাধ্যমে থেকে তারা আপ্রান চেষ্টা করবে মিজান ও কামরুলের মতো বার বার আমাদের সিনিয়র স্যারদের কাছ থেকে কর্ম যোগ্যতার সম্মাননার পুরস্কার গ্রহন করার । তিনি আরো বলেন পুলিশের চাকুরী বদলীর চাকুরী যে কারও বদলী হতে পারে আবার নতুন আসবে এটাই নিয়ম । সুতরাং যারা আছেন তাদেরকে পরিচালনা করে ভালো কিছু করার আশা আমার সর্ব সময়ই অব্যহত থাকবে। তবে মাদক ,সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আমাদের থানাধীন এলাকায় আগের তুলনায় বেড়ে যাবে তা আমি কখনও হতে দেব না। আমার জন্য দোয়া করবে চেষ্টা অব্যত রাখবো ইনশাল্লাহ।

এলাকাবাসী জানান, ফতুল্লা মডেল থানার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক‘ অঞ্চল) মো.শরফুদ্দীন ও ফতুল্লা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ কামাল উদ্দিন তাঁরা দু‘জনেই বিচোক্ষন হওয়ায় জেলার অন্যান্য থানার চেয়ে ফতুল্লার আইন শৃঙ্খলা যথেষ্ট উন্নতি ।

Leave A Reply