ফতুল্লায় অপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা ফরিদ আহম্মেদ লিটন

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

মাদক, ছিনতাই, চাদাঁবাজী সহ সকল অপকর্মের শেল্টার দাতা হিসেবে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ লিটন তার রাজনৈতিক পদে পদবী কে পুজিঁ করে শুরুতে আপন মামা মজিবর ও মামানী হালিমার মাধ্যমে পাইলট স্কুলের পশ্চিম পার্শ্বে জেলার সবচেয়ে বড় হেরোইন স্পর্ট গড়ে তুলেছিলেন। এর কয়েক বছর পরে লিটন তার আপন ছোট ভাই বন্দুক মাসুমের মাধ্যমে গড়ে তুলেন গাজাঁ, ফেনসিডিল, ইয়াবার সাম্রাজ্য আর এখন আপন ভাগিনা কথিত নামদারী ছাত্রলীগ নেতা ভাগিনা বাবু ও তার ছিচঁকে বাহিনী দিয়ে সংঘটিত করাচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড যার শেল্টার দাতা হিসাবে এলাকা বাসী মনে করে লিটনকে। সরকারী দলের একটি সহযোগী সংগঠনের থানা পর্যায়ের শীর্ষ পদে থাকা লিটনকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী আটক করতে না পারলেও তাদের মাদকের আস্তানায় কয়েক বার অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করে প্রতিবারই তবে একমাত্র র্যাব- ১১ ছাড়া আর কোনো বাহিনীই বন্দুক মাসুমকে আটক করতে পারেনি। ইতিপূর্বে থানা পুলিশের একটি টীম বন্দুক মাসুম ও লিটনের মাদকের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে কয়েক মণ গাজাঁ উদ্ধার করলেও বন্দুক মাসুম পালিয়ে যায়, এঘটনায় দায়েরকৃত মাদক মামলা (৪২) ৫-২০১৩ ইং লিটনের মোটা অংকের টাকা আর রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে চুড়ান্ত প্রতিবেদনে বন্দুক মাসুমের নাম বাদ দিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে তৎকালীন মামলার তদন্ত কারী অফিসার ফজলুল হক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সুত্রে প্রকাশ যে এর কয়েক মাস পরে র্যাব-১১ বন্দুক মাসুমের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে লুস ফেনসিডিল ও ইয়াবা বন্দুক মাসুম কে আটক করলে পালিয়ে যায় লিটন। এঘটনায় একটি মাদক মামলা র্যাব দায়ের করে ফতুল্লা মডেল থানায় যার নং (৭৭) ১১-২০১৩ ইং, পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লিটন ১ সপ্তাহের মধ্যে বন্দুক মাসুমকে জামিনে বের করে এবং পরবর্তীতে সাধারন মানুষের চোখে ধূলো দিতে লিটন ও বন্দুক মাসুম পবিত্র হজ্ব পালন করেন, “হাজী” পদবী নিয়ে বন্দুক মাসুম ফের লিপ্ত হন মাদক ব্যবসা সহ সকল অপকর্মে এমনি অভিযোগ এলাকা বাসীর। হজ্ব করে আসার পরে চালাক লিটন মুখে মুখে ছোট ভাইয়ের মাদক ব্যবসার বিরোধ করলেও ভিতরে ভিতরে রাখতেন গভীর সখ্যতা।

সুত্রে প্রকাশ যে গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাপা ইদ্রাকপুরে একটি অভিযান চালায়, ফেনসিডিলের চালান পাচার করার সময় ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বন্দুক মাসুম পালিয়ে গেলেও ডিবি পুলিশ বন্দুক মাসুমের সহযোগী জলিলকে ২শত বোতল ফেনসিডিল সহ আটক করেন, যার মামলা নং (২৭)২-২০১৮। এলাকা বাসীর সুত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুনূর রশীদ আসার পরে লিটনের পরামর্শে বন্দুক মাসুম অনেক টা পর্দার আড়ালে চলে গেছে মাদক বিক্রিতে তবে এ ব্যবসার প্রকাশ্য দায়িত্ব পেয়েছেন আপন ভাগিনা বাবু, কথিত যুবলীগ ক্যাডার আমান উল্ল্যাহ্, মোয়াজ্জেম বাবু, ভোদেং স্বপন আর বন্দুক মাসুমের মাদকের চালান সুযোগ বুঝে প্রবেশ করে দাপা এলাকার হক ষ্টীল নামক একটি পরিত্যক্ত কারখানার ভিতরে।

এলাকা বাসীর সুত্রে জানা গেছে, বন্দুক মাসুম ও লিটনের ম্যানেজ কৃত নৈশ প্রহরী, হক ষ্টীলের দারোয়ান এবং বন্দুক মাসুমের আপন ফুফাতো ভাই মজিবর ওরফে মইজ্জ্যা মাদক চালানের সময় পুরোপুরি নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদ পরিসরে মামাতো ভাই বন্দুক মাসুমের মাদক পাচার করে থাকেন। সুত্রে জানা গেছে ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত মাদক সম্রাট মাষ্টার দেলুর কৌশল অবলম্বন করে বন্দুক মাসুম তার বাড়ীতে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়েছে একাধিক সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কারী বাহিনীর কোনো গাড়ী এলাকায় আসার পূর্বে দিনের বেলায় চায়ের দোকানদার বেশী ফুফাতো ভাই মজিবর ওরফে মইজ্জ্যা ফোন দিয়ে বন্দুক মাসুমকে তথ্য জানিয়ে দেয়। আর রাতের বেলায় তাদের পোষ্য নৈশ প্রহরীরা। এলাকা বাসীর প্রশ্ন সীমান্ত এলাকায় ইয়াবার চালান আটক হওয়ার পরেও বন্দুক মাসুমের মাদক রাজ্যে নিয়মিত ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে কোথায় থেকে তাহলে কি বন্দুক মাসুমের বাড়ীতে মিনি ইয়াবা কারখানাও গড়ে উঠেছে ! এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তির মৌখিক ও ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের কৃত লিখিত অভিযোগে জানা গেছে চলতি মেয়াদে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিন পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠে বন্দুক মাসুম ও লিটনের আপন ভাগিনা বাবু এবং তার ছিচঁকে বাহিনীর সদস্য রানা ওরফে মাসুদ রানা, আলামিন ওরফে এমপি আলামিন, মোল্লা রাসেল, রাতি বাবু, রুবেল সহ ২০/২৫ জনের বাহিনী । লিখিত অভিযোগ কারী ব্যক্তিরা হলেন ফতুল্লা রেল ষ্টেশন এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী আঃ মতিন, মুরগীর ডিম বিক্রেতা শাহ্আলম, তরকারী বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন, মোঃ ইউসুফ হোসেন, মোঃ সোহাগ সহ কয়েক ডজন খানেক ব্যক্তি জানায়, ৬ জানুয়ারী রাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটনের আপন ভাগিনা বাবু সহ তার বাহিনীর ছিচঁকে ক্যাডারেরা সশস্ত্র অবস্থায় এসে তাদের হুমকি দিয়ে বলে প্রত্যেকে ৩ হাজার টাকা করে এক কালীন চাদাঁ ও প্রতিদিন সন্ধ্যায় জন প্রতি ৭০ টাকা করে চাদাঁ তাদের দিতে হবে এবং না দিলে ব্যবসা বন্ধ এবং প্রানে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি প্রদান করা হয়।ইতিমধ্যে অভিযোগকারীদের একাধিক অভিযোগ পত্র এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছেছে।

 

এই লিখিত অভিযোগ তদন্তে থাকা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মজিবুর রহমান জানান, তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে লিটনের আপন ভাগিনা বাবু সহ এ বাহিনীর সদস্য মাসুদ রানা, রুবেল, মোয়াজ্জেম বাবু, আলামিন, বেলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে উল্লেখিতরা গত ১২/৩/২০১৯ ইং বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে কাতার -বাংলাদেশ চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে চাকুরী করা শহীদুল ইসলাম ওরফে রানা নামক এক ব্যক্তিকে ফতুল্লা পাইলট স্কুলের পশ্চিম দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্লাবে ডেকে নিয়ে ঐ ব্যক্তির কাছ থেকে একটি নরমাল মোবাইল সেট ও স্যামস্যাং গ্যালাক্সি নোট ৫ মোবাইল সেট যার কেনা সময়ের মূল্য প্রায় ৭৬ হাজার টাকা এবং ম্যানিব্যাগ থেকে আনুমানিক ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে জোর পূর্বক ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে লিটনের সহযোগিতায় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার সংবাদ সংবাদ পেয়ে শহীদুলের স্ত্রী ভাগিনা বাবুর আওয়ামীলীগ ক্লাবে এসে মোবাইল টাকা এবং তার স্বামীকে ফেরত চাইলে তৎকালীন সময়ে ভাগিনা বাবুর সেকেন্ড ইন কমান্ড রানা ওরফে মাসুদ রানা শহীদুলের স্ত্রীকে কুঃপ্রস্তাব দিলে সে কান্না করতে করতে লিটনের কাছে গিয়ে সবকিছু খুলে বললেও কোনো প্রতিকার পায়নি। অভিযোগে আরো জানা গেছে লিটনের ফোন পেয়ে আসা পুলিশ অফিসারকে লিটন প্রস্তাব দেয় ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া শহীদুলকে বেশী করে ইয়াবা দিয়ে মামলা দিয়ে দিন দরকার হলে টাকা দেবো কিন্তুু পুলিশ অফিসার এতে রাজী না হয়ে উল্টো শহীদুলের কাছ থেকে নেওয়া মোবাইল ও টাকা ফেরত চাইলে ভাগিনা বাবু নরমাল মোবাইল ও মাসুদ রানা খালি ম্যানিব্যাগ ফেরত দেয় । এসময় শহীদুল স্যামস্যাং গ্যালাক্সি নোট ৫ মোবাইল ও নগদ ৭ হাজার টাকা ফেরত চাইলে লিটনের নির্দেশে ভাগিনা বাবু, মাসুদ রানা শহীদুলকে মারধর করলে উপস্থিত পুলিশ অফিসার তাকে থানায় নিয়ে যায়। ভূক্তভোগী শহীদুল আরো জানায়, এসকল বিষয়ে ওসি (তৎকালীন) মঞ্জুর কাদের কে জানালে ওসি লিটন করে ফোন দিয়ে টাকা ও মোবাইল ফেরত দিতে বললেও পরবর্তীতে মোবাইল ও টাকা ফেরত না দিয়ে লিটন ভূক্তভোগীকে আবারো মেরে ইয়াবা দিয়ে ফাসিঁয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে শহীদুলের অভিযোগ।

এ বিষয়ে জানতে সোমবার ফরিদ আহম্মেদ লিটনের মোবাইল ফোনে উক্ত নাম্বারে ০১৭১৫৭৮৪৬৫৫ তিনবার ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম জানান, আমরা চলমান প্রক্রিয়ায় কাজ করছি।অপরাধ নির্মূলে আমরা অপরাধীদের ছাড় দিবো না। অপরাধী যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

0 Shares
শেয়ার করুন.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.