ফতুল্লার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের লালনকর্তা সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা লিটন

0
বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লার নিরীহ মানুষকে মারধর করে টাকা মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া ছাড়াও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, রেলস্টেশন এলাকার হকারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা নেওয়া এই রকম অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত ফতুল্লা থানা সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ লিটন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফতুল্লার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের লালনকর্তা হিসেবে পরিচিত এই ফরিদ আহম্মেদ লিটন।তার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রনে আছে আপন ভাগিনা বাবু, কথিত যুবলীগ ক্যাডার আমান উল্ল্যাহ্, মোয়াজ্জেম বাবু, ভোদেং স্বপন ও তার আপন ভাই বন্দুক মাসুম, মাসুদ রানা, আলামিন ওরফে এমপি আলামিন, মোল্লা রাসেল, বাতি বাবু, রুবেল সহ ২০/২৫ জনের বাহিনী ।ফতুল্লায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর রেলস্টেশন এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাঁধায় দেওয়ায় মৃত নিজামের ছেলে সোহাগ ও ফজলুল হকের ছেলে উজ্জলকে তাদের বাড়ির সামনে লিটন বাহিনীর মোয়াজ্জেম বাবু ৮/১০ জনের সন্ত্রাসীর একটি দল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধরকভাবে মারধর করে। তাদের হত্যার উদ্দ্যেশে লোহার রড দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ ঘটনায় পরিবর্তীতে সোহাগ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এদিকে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় তাদের চাঁদা না দিয়ে কেউ ব্যবসা করতে পারে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিটনের চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী রেলস্টেশন এলাকার দোকান প্রতি এককালীন তিন হাজার ও দিন প্রতি ৭০ টাকা করে চাঁদা তুলে। কেউ এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীরা বেধরকভাবে মারধর করে। তাদের অত্যাচারের শিকার অনেক দোকানদারকে রেলস্টেশন এলাকায় গেলে দেখা মিলবে।কিন্তু তারা ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। বর্তমানে লিটনের সন্ত্রাসী বাহিনীর সম্পর্কে অনেকে মুখ খুলতে শুরু করেছে। এর মধ্যে তাদের অত্যাচারের শিকার হওয়া ফতুল্লা রেল ষ্টেশন এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী আঃ মতিন, মুরগীর ডিম বিক্রেতা শাহ্আলম, তরকারী বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন, মোঃ ইউসুফ হোসেন, মোঃ সোহাগ সহ কয়েক ডজন খানেক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতা দেখিয়ে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা লিটন তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এসব অত্যাচার চালাচ্ছে। কয়েক বছরে ফরিদ আহম্মেদ লিটন তার অপরাধের সাম্রাজ্য চালিয়ে বনে গেছে কোটি পতি। টাকা আর দলের ক্ষমতার দাপটে এত লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ থাকার পরও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এদিকে তার আপন ভাই র্যা বের হাতে মাদক সহ গ্রেফতার হওয়া শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক মাসুম ফতুল্লায় দেরাচ্ছে চালাচ্ছে তার মাদক ব্যবসা। যার কারনে যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
নারায়ণগঞ্জে সুযোগ্য এসপি হারুন অর রশীদ আসার পর থেকে তার কঠোর তৎপরতায় বেশীরভাগ অপরাধীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যার কারনে বন্দুক মাসুম অনেক টা পর্দার আড়ালে চলে গেছে। বর্তমানে তার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে আছে লিটনের ভাগিনা বাবু সহ তার সন্ত্রাসী দল।
এদিকে কাতার-বাংলাদেশ চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে চাকুরী করা শহীদুল ইসলাম ওরফে রানার একটি নরমাল মোবাইল সেট ও স্যামস্যাং গ্যালাক্সি নোট-৫ মোবাইল সেট জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। তার সাথে মানিব্যাগে থাকা ৭ হাজার টাকাও কেড়ে নেয় ভাগিনা বাবুর বাহিনীরা। রানা তার মোবাইল ফেরত চাইলে লিটনের সহযোগীতায় রানার পকেটে ইয়াবা ডুকিয়ে ফাসানোর চেষ্টা করে।পরবর্তীতে রানা ফতুল্লা মডেল থানায় ওসি মঞ্জুর কাদের কাছে সব কিছু খুলে বললে তিনি মোবাইল ফেরত নিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সে মূহুর্তে রানা ওসির আশ্বাসে থানায় মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু সেই মোবাইল ও টাকা লিটন ও তার বাহিনী ফেরত না দিয়ে উল্টো তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় এবং মাদক দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিবে হুমকি বলে দেয়।শহীদুল ইসলাম ওরফে রানার মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের সমস্ত ঘটনা এই প্রতিবেদকের কাছে বক্তব্য আকারে প্রদান করেছে। প্রমান সহ সকল রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে জমা রয়েছে। শুধু তাই নয় লিটন ও সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় দায়ের কৃত একাধিক অভিযোগ পত্র এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছেছে। এদিকে তাদের অপকর্ম ডাকতে নাম সর্বস্বহীন বর্তমান নারায়ণগঞ্জস ডট কম নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল লিটন তার ভাগিনা  বাবু দিয়ে পরিচালনা করছে। যেটা দিয়ে মানুষকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। আর তার ভাগিনা দ্ধারা পরিচালিত নিউজ পোর্টালটি ফতুল্লার কিছু সাংবাদিকরা বিনিময়ে নিয়ন্ত্রন করেন। যেখানে সুযোগ্য এসপি হারুন পেশাদার সাংবাদিকদের সুনাম ধরে রাখতে ভূয়া সাংবাদিকদের গ্রেফতার করছে। সেখানে নাম সর্বস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল সন্ত্রাসীরা কিভাবে চালান এমনই প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। তাদের এমন অত্যাচারে অতিষ্ট ফতুল্লাবাসী। এ ব্যাপারে ফতুল্লা এলাকায় অপরাধ নির্মূলে লিটন বাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে স্থানীয় এলাকাবাসী জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান জানান, ফতুল্লায় মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ সহ সকল অপরাধী নিয়ন্ত্রনে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ সদা তৎপর। ফতুল্লা এলাকা শান্তিপূর্ন রাখতে সুযোগ্য এসপি হারুন স্যারের নির্দেশে ইতিমধ্যে  অনেক অপরাধীকে ধরতে আমরা সক্ষম হয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্ট চলছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
0 Shares
শেয়ার করুন.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.