নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শীতলক্ষা নদীতে রাতে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড ও কার্গো

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ। এই জেলার সদর থেকে বন্দর উপজেলায় যাতায়াতের জন্য রয়েছে শীতলক্ষা নদী। এই পথে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে হাজার হাজার মানুষ। নিরাপত্তাহীনতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড়াপাড় হয় মানুষ। আর এই শীতলক্ষা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের বেলা বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে বালুবাহী ও মালবাহী বাল্কহেড আর কার্গো। যার কারনে ঘটছে দূর্ঘটনা। এতে নদীতে প্রান হারাচ্ছে মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ বছরে এই শীতলক্ষা নদীতে ছোট বড় প্রায়ই ৪০টির মত দূর্ঘটনা ঘটেছে। সদর থেকে বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষা নদীতে নৌকা যাতায়াতের জন্য রয়েছে ১০টি ঘাট। চলাচলরত ঘাটগুলো হল, মদনগঞ্জ ঘাট, সোনাকান্দা ঘাট, ডালপট্টি টার্মিনাল ঘাট, টানাবাজার ঘাট, লঞ্চ টার্মিনাল এলাকার সেন্ট্রাল খেয়াঘাট, ৫ নম্বর সারঘাট, বরফকল জামাল সোপ ঘাট, নবীগঞ্জ ঘাট, লক্ষ্মণখোলা ঘাট ও কুড়িপাড়া খেয়াঘাট। আর এই ঘাটগুলোতে প্রতিদিন নদী পাড়াপাড় হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু শীতলক্ষা নদীতে ঝুকিপূর্নভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের বেলা চলাচল করছে বালুবাহী বাল্কহেড, মালবাহী কার্গো সহ বড় বড় নৌযান। যার কারনে ঘটছে দূর্ঘটনা। জেলা নৌ পুলিশের হিসাবমতে গত ৪ বছরে প্রায়ই ৪০ টির মত ছোট বড় দূর্ঘটনা ঘটেছে।
আরো জানা যায়, এসব বালুবাহী বাল্কহেড ও মালবাহী কার্গো নৌযানগুলো নৌ পুলিশকে ম্যানেজ করে রাতেরন বেলা শীতলক্ষা নদীতে চলাচল করে। এসব নৌ যানের কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি নৌযানের জন্য তাদের নৌ পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে মধ্য রাত অবধি পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে নৌ পুলিশ।
নাম না প্রকাশ্যে অনিইচ্ছুক বালুবাহী বাল্কের কর্মচারী জানান, মালিকদের চাপে পরে আমাদের রাতে নৌযান চালাতে হয়। তারা অধিক মুনাফার লোভে আমাদের চালাতে বাধ্য করে। রাতের বেলায় বালুবাহী বাল্ক হেড চালাতে আমাদের নৌ পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। নৌ পুলিশ ট্রলারে করে এসে আমাদের বাল্কহেড থামিয়ে চাঁদা আদায় করে।
টানাবাজার ঘাটে যাতায়াত কারী আরিফ নামে এক যাত্রী জানান, আমরা বন্দরবাসী প্রতিদিন এই শীতলক্ষা নদী দিয়ে খেয়া পাড়াপাড় হই। হাজার হাজার মানুষ এখানে দিয়ে যাতায়াত করে। বাল্কহেড আর কার্গো নৌ যানের বেপরোয়াভাবে চলাচলে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। সব সময় আমাদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে আতংকে নদী পাড় হতে হয়।
সোনাকান্দা ঘাটে যাতায়াতকারী আরেক যাত্রী হোসেন বলেন, রাতের বেলা বাল্ক হেড ও কার্গোর বেপরোয়া চলাচলে আমাদের ভয়ে ভয়ে নদী পাড় হতে হয়। এতে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাতের বাল্কহেড ও কার্গো রাতের বেলা চলাচল বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নৌ যান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ সিকদার বলেন, রাতের বেলা নদী পথে বালুবাহী বাল্কহেড ও মালবাহী কার্গো নৌ যান চলাচল নিষিদ্ধ। রাতের বেলা যাতে মালিক পক্ষ আমাদের শ্রমিকদের দিয়ে বাল্কহেড ও কার্গো চলাচল না করায় সেজন্য আমরা কয়েকবার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে স্মারকলিপি দিয়েছি। মালিক পক্ষ অধিক মোনাফার লোভে রাতের বেলা শ্রমিকদের দিয়ে বাল্কহেড ও কার্গো চালান। নদী পাড় হওয়া যাত্রীদের সাথে শ্রমিকরাও আতংকে থাকে। রাতের বেলা বালুবাহী বাল্কহেড ও মালবাহী কার্গো সহ বড় নৌযান চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম বলেন, রাতের বেলা যাতে বেপরোয়াভাবে নদী পথে বালুবাহী বাল্ক হেড ও মালবাহী কার্গো সহ বড় বড় নৌ যান চলাচল না করে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব নৌযানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।
জেলা নৌ পুলিশের ওসি নেওয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগের থেকে তুলনামূলকভাবে রাতে কম চলাচল করে বাল্কহেড সহ বড় নৌযানগুলো। অনেক সময় বড় বড় নৌযানের চালানোর গতি বেশী থাকায় তাদের ধরা যায় না। তারা পালিয়ে যায়। গতকালকেও আমাদের অভিযান হয়েছে। কয়েকটি নৌযানকে মামলা করে জরিমানা করা হয়েছে। রাতের বেলা যাতে বাল্কহেড ও কার্গোসহ বড় বড় নৌযান চলাচল বন্ধ করা হয় সেজন্য আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রলার করে অনেক সময় নৌ পুলিশ নৌ যানে টহল দিয়ে তাদের চেক করে।

103 Shares

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.