নারায়ণগঞ্জের তিন ওসি’র বদলী

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

অবশেষে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে নারায়ণঞ্জ জেলার সদর মডেল থানা, সোনারগাঁও থানা এবং গোয়েন্দা শাখা(ডিবি)সহ ৩ অফিসার ইনচার্জের বদলীর অডার হয়েছে বলে পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান আসাদ তার বদলী অর্ডার হয়েছে। তার স্থানে আসছে গোপাল গঞ্জের ছেলে অফিসার ইনচার্জ মো. শাহীন পারভেজ। তিনি মানিকগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় আসছেন। সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মঞ্জুর কাদের তার অর্ডার বদলী হয়েছে। তার স্থানে আসছেন ঢাকা ডিএমপির পল্টন থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এর অফিসার ইনচার্জ মো.মাহমুদুল হাসান বদলীর অর্ডার হয়েছে। তার স্থানে আসছেন সেভেন মার্ডারের সময়ের ডিবি‘র সাবেক অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুব আলম।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা-ফতুল্লা মডেল থানা থেকে হত্যাসহ নানা ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ বিতর্কে জড়িয়ে বদলী হন মো. আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি ফতুল্লা থানা থেকে বদলী হয়ে প্রায়ই ৪ মাস পরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় যোগদান করেন। কিন্তু সেখানে এসেও তেমন আইন শৃঙ্খলা ও অফিসারদের চেইন অব কমান্ড ঠিক রাখতে ব্যর্থ হন। তিনি দুই সিভিল টিম করে নানা অনিয়মের দায়ে বির্তকে জড়িয়ে পরেন। এরপর কিছুদিনের মধ্যেই তার থানাধীন এলাকায় জঙ্গি আস্তানা পাওয়া যায়। এরপর দারোগারা রিমান্ডের নামে সিগারেট এর ছ্যাকা দেয়ার অভিযোগে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হতে হয় তাকে। ভোরের কথার সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ সাথে তার থানার সামারিবাজ এসআই আবুল বাশারের অশুভোনীয় আচরনে সাংবাদিকরা চাষাড়া বিজয় স্তম্ভ এর সামনে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার সঠিক বিচার করার আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা রাস্তা অবরোধ উঠিয়ে ফেলে। এ যাবৎ তিনি সদর মডেল থানায় যোগদান করে তেমন কোন সাফাল্য দেখাতে পারেনি। বরং তার দ্বারা সদরের জামায়াত বিএনপি,বামদলের নেতাকর্মীরা সুবিধা ভোগ করে বলে সাধারন জনগন জানান। তিনি ফতুল্লা থাকা কালীনও জামায়াতের নেতা ও বিএনপি‘র সভাপতি আলহাজ্ব মোহম্মদ শাহ আলমের সাথে সম্পর্ক ভালো ছিলো। তার সহায়তায় জামায়াত নেতারা ফতুল্লা চৌধুরী বাড়িতে বিল্ডিংয়ের কাজ করতে পেরেছেন। এনিয়ে স্থানীয় পত্র পত্রিকায় লেখালেখিও হয়েছে। সে নানা বির্তকের কারনে ফতুল্লায় থাকতে পারেনি।কিন্তু সদরেও তেমন কোন কাজে যোগ্যতা প্রমান করতে পারেনি। বরং তিনি মেয়র আইভির কথায় তিন সম্পাদকসহ ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত ছ্ড়াাই ৫৭ ধারায় মামলা নিয়েছেন। তিনি বরাবরই সাংবাদিকদের সতীন ভেবে আসছে। তিনি ফতুল্লা থাকাকালীনও সাংবাদিক উজ্জলকে নাজেহাল করে এসআই সাইদুর রহমান। তখনও সাংবাদিকরা থানার সামনে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে বিচারের প্রতিশ্রুতিতে অবরোধ ভাঙ্গেন সাংবাদিকরা। নিয়মিত লিখিয়ে এক সিনিয়র সাংবাদিককে নাজেহাল করতে সন্ত্রাস মাদক ব্যবসায়ী চুন্নুকে বাদী করে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে তিনি রাজনীতিবিদ সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক নারায়নঞ্জ ও ঢাকার সাংবাদিকের তোপের মুখে পরে। একপর্যায় তিনি থেমে যায় মামলা নিতে গিয়ে। অপরদিকে, তোফজ্জহল হোসেন চুন্নকে নিয়ে গনমাধ্যমে তার অপকর্ম তুলে ধরায় আসাদের আমলেই চুন্নু র‌্যাবের হাতে অস্ত্র ও বিদেশীমদসহ ফতুল্লায় গ্রেপ্তার হন। তিনিই বিতর্কে জড়ায় ফতুল্লা থানার ভেতর ও বাহিরেও।ফতুল্লা গত ২০১৬ সালের মার্চের ১৫ তারিখ বদলী হয় । বর্তমানে সদর থানা থেকে তার অন্যত্রায় বদলীর অর্ডার আসছে । তার স্থানে অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বসবেন মো.শাহীন পারভেজ।
সোনারগাঁও থানা ঃ নারায়নগঞ্জ জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুরে ফিরে আছেন সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মঞ্জুর কাদের। তিনি নারায়ণঞ্জ সদর থানায় থাকাকালীন যথেষ্ট যোগ্যতার পরিচয় ছিলেন কিন্তু সোনারগাঁও থানায় বদলী হয়ে জড়িয়ে পরে নানা বির্তকে। তিনি গন্যমাধ্যমের কর্মীদের সাথে অশুভোনীয় আচরনে বির্তকে জড়িয়ে পরায় তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে । এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা তার সার্পোটে থাকায় সমস্যা সমাধানে আসে। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও একের পর এক অভিযোগ উঠে। কয়েকদিন আগেও ভুমিদস্যুদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ভুক্তভুগিরা। মঞ্জুর কাদেরের বদলীর অর্ডার আসছে । তার স্থানে আসছেন পল্টন থানার অফিসার ইনচার্জ মো.মোরশেদ আলম। তিনি একজন চৌকশ অফিসার ইনচার্জ এমনটাই বলছেন তার সাথে চাকুরী করা অনেক দারোগারা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি ঃ নারায়নগঞ্জ জেলা ডিবি‘র অফিসার ইনচার্জে বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক অভিযোগ। তারপরও তিনি অস্ত্র উদ্ধারে এবং গত জুন মাসে সফলতা পেয়েছেন। তার অফিসার ও সোর্সদের বিরুদ্ধে সাধারন জনগন ক্ষিপ্ত। ডিবি পুলিশ মাদকের মূল ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার না করে সেবন কারীদের ধরে মামলা দেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি যোগদানের পরে শুধুমাত্র গত জুন মাসে ব্যাপক সফলতা দেখাতে পেরেছেন।
সূত্রে আরো জানাযায়, আসাদ, মঞ্জুর কাদের ও মাহমুদুল হাসান বদলী ঠেকাতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সরকারী শরীক দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে দৌড় ঝাপ করছেন। তবে এব্যাপারে নারায়ণঞ্জ জেলার ‘ক’ অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.শরফুদ্দীন জানান বদলী সম্পর্কে কোন তথ্য আমার জানা নেই। তবে আমি জানলে আপনাদেরকে জানাবো।

Leave A Reply