না’গঞ্জে শক্তিশালী অবস্থানে আ’লীগ আর কোনঠাসা বিএনপি!

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

কেন্দ্রীয় নেতাদের পদ চারনায় নতুন ভাবে উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নামছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ। নিজ নিজ এলাকায় ‘যারপরনাই’ সরব হচ্ছেন নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তৃণমূলে বাড়ছে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। দশম সংসদের মেয়াদ অনুসারে জাতীয় নির্বাচনে দেড় বছর আগেই পোস্টার, ডিজিটাল ব্যানারে ছেয়ে যাচ্ছে এলাকা। নিজের এলাকায় অনেকে ‘উঠোন বৈঠক’ পর্যন্তও শুরু করে দিয়েছেন। যাওয়া শুরু করেছেন পাড়া-মহল্লায়। সবার লক্ষ্য একটাইÍ একাদশ জাতীয় নির্বাচন। সে নির্বাচনে নিজ দলের মনোনয়ন ও জয়লাভ দুটোই করতে হবে যে কোনো মূল্যে। সে জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছেন। তাছাড়া বর্তমানে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একাধিক জরিপের কাজ চলছে। এ জরিপ চলাকালে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শোডাউনের পরিমাণও বাড়াচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। একই সঙ্গে পদ্মা সেতু নির্মাণসহ সরকারের কৃত দৃশ্যমান বড় বড় উন্নয়ন কর্মকা- জনগণের সামনে তুলে ধরারও ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাছাড়া দল ক্ষমতয় আসল স্ব স্ব এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের আশ্বাস প্রদান করা হচ্ছে। ফলে সঙ্গত কারণেই তাদের প্রতিটি এলাকায় যেতে হচ্ছে প্রার্থীদের। তবে আপাতত নিজ দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রতিপক্ষ নেতারাই এখন একে-অপরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্ধী হয়ে উঠেছেন। ফলে এলাকার আধিপত্য আর নেতৃত্বের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টায় সংঘাতের আশংকা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভিতরে এ অভিযোগ উঠছে সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের মধ্যেও চলছে একই প্রতিযোগিতা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতেই সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরনী অনুষ্ঠানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আর দলীয় আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে মারামারি ও সংঘর্ষেও লিপ্ত হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। তবে বিএনপির নেতারা অভিযোগ তুলছেন যারাই এলাকায় একটু নির্বাচনী তৎপরতা চালাতে যাচ্ছেন, তাদের ওপরই ক্ষমতাসীনদের হামলা-নির্যাতনের খড়গ নেমে আসছে। দলীয় লোকজনদের নামে পুরনো মামলা থাকার পরও নতুন করে আরও মামলা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের নেতাদের নামে নতুন করে মামলা দায়েরের অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।
আওয়ামীলীগ- নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তোড়জোড় বেশি দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ গত রোববার সদস্য সংগ্রহ ফরম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলা ও মহানগরের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থেকে তৃনমূল নেতৃবৃন্দ। সদস্য সংগ্রহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এখন থেকেই নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার জন্য দলের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী নির্বাচন কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করিয়ে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্য ব্যাক্তিকেই নৌকার সমর্থন দেয়া হবে। এলাকায় দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করারও নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মূল কাজ ঘর গোছানো হলেও সেখানে পারছে না দলটি। দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনে মামলা-হামলা ও নির্যাতনে তৃণমূলের নাজুক সাংগঠনিক অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। আন্দোলনে চূড়ান্ত সফলতা না পাওয়ায় নেতাকর্মীরা এখনো বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে ভোটযুদ্ধের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে দলটির হাইকমান্ডকে পরামর্শ দেন দলটির তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। তৃণমূলকে চাঙা ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে দলটির। এদিকে একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র তৃণমূল সফরের জন্য ৫১টি কেন্দ্রীয় টিম করা হয়েছে। মূলত মাঠের চিত্র জানা এবং সে মতে কাজ করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। তবে আন্দোলন ও নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের চাঙা করতে বিএনপির নেওয়া উদ্যোগ ঠিকমতো কাজ করছে না। নির্ধারিত সময়ে অর্ধেক জেলায়ও কর্মিসভা করতে পারেনি দলটি। তা ছাড়া দলে ঐক্য গড়ার এই কর্মসূচিতে জেলার বিবদমান পক্ষগুলোর কোন্দল আরো স্পষ্ট হয়েছে। পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। তাই আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কতটা সফলতা কেন্দ্রকে উপহার দিতে পারবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

Leave A Reply