দুই দিন বন্ধ রাখার পর আল-আকসা মসজিদ খুলে দিয়েছে ইসরাইল

0

বিজয় বার্তা ২৪.কম

দুই দিন বন্ধ রাখার পর আল-আকসা মসজিদ খুলে দেওয়া হলেও মুসল্লিদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইসরাইল সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও হয়রানির প্রতিবাদে মসজিদটির ভেতরে নামাজ আদায় বন্ধ রেখেছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরাইলের নিরাপত্তায় ফ্রান্স শর্তহীন সমর্থন দিয়ে গেলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দ্বীরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের গুলিতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর ২ সদস্য নিহত হওয়ার জেরে আল-আকসা মসজিদ শুক্রবার বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। দুই দিন বন্ধ রাখার পর গেল রোববার মসজিদটি খুলে দেয়া হলও মুসল্লিদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে নিরাপত্তা বাহিনী। দরজার সামনে বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর। প্রত্যেক মুসল্লির শরীর তল্লাশির পরই কেবল অনুমতি দেয়া হচ্ছে ভেতরে প্রবেশের।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই কড়াকড়ি আরোপের কঠোর সমালোচনা করেছেন আল-আকসা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশির প্রতিবাদে সোমবার মসজিদের ভেতরে প্রবেশ না করে বাইরে নামাজ আদায় করে ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা।
এক মুসল্লি বলেন, ‘মসজিদ বন্ধ করে দিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী যে অপরাধ করেছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য। ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আল-আকসা মসজিদে মুসলমানদের প্রবেশ বন্ধে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
আরেকজন বলেন, ‘আমরা মুসলমান হিসেবে আল-আকসা মসজিদে যাওয়ার অধিকার রাখি। আল-আকসা মসজিদ আমাদের বিশ্বাসের জায়গা। এটা অন্য কারো জন্যে নয়, শুধুই মুসলমানদের জন্য।’
একইদিন ফ্রান্স সফরে আসেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মূলত ১৯৪২ সালে নাৎসি অধিকৃত ফ্রান্সে ইহুদিদের গণগ্রেফতারের স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া তার এই সফরের লক্ষ্য হলেও এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রসঙ্গও আলোচিত হয়। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে থমকে থাকা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা আবারো শুরুর আহ্বান জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূমিতে ইসরাইলের অব্যাহত বসতি নির্মাণের বিষয়ে ফ্রান্সের বিরোধিতার কথাও উল্লেখ করেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত মানদণ্ডের আওতায় সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমর্থন দিতে প্রস্তুত। ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের জেরুজালেমকে রাজধানী করে নিশ্চিত ও স্বীকৃত সীমানার মধ্যে বসবাস করতে পারা উচিত। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সহযোগিতার জন্য ফ্রান্স প্রস্তুত রয়েছে। বসতি নির্মাণের ক্ষেত্রে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত। কারণ এ ধরনের কর্মকাণ্ড শান্তি আলোচনায় বাধা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’
ফ্রান্সকে ইসরাইলের শক্তিশালী বন্ধু আখ্যায়িত করে বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল ও ইউরোপকে ধ্বংস করতে চায় ইসলামী সন্ত্রাস। এসময় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর ইচ্ছা প্রকাশ করলেও এব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলা থেকে বিরত থাকেন নেতানিয়াহু।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে ফ্রান্স এবং ইসরাইল একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। ইসলামী সন্ত্রাস যেমন ইসরাইলকে ধ্বংস করতে চায় তেমনি ইউরোপেও এ সমস্যা হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমাদের উচিত তাদের বিরুদ্ধে এক সঙ্গে লড়াই করা। তাহলে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করা আরো সহজ হবে। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় আমাদের ইচ্ছে থাকলেও প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর আরো আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসা দরকার।’
বৈঠকে সিরিয়া যুদ্ধ এবং ফ্রান্স ও ইসরাইলের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন ম্যাক্রোঁ-নেতানিয়াহু।

 

Leave A Reply