টার্গেট নিয়ে মাঠে না’গঞ্জ বিএনপি!

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা, তহবিল গঠন, দল ভারি ও ডাটাবেজ তৈরিসহ দলগুছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জর বিএনপি। লক্ষাধিক নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কাছাকাছি অর্জন হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় নিষ্কিয় নেতাকর্মীরাও এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন। প্রতিটি থানা ও উপজেলা এমনকি ইউনিয়নেও স্বত:স্ফূর্তভাবে নেতাকর্মীরা সদস্য পদ নবায়ন করছেন, নতুন করে সদস্য হচ্ছে তরুণ শিক্ষার্থী, যুবক, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক-চিকিৎসকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। ধীরে ধীরে দলের এই কর্মসূচি জেলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসানের বাঁধার মুখে পড়ছে বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। কোথাও কোথাও বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। শুধু স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচিতে বাঁধা দানই নয়, বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে গোয়েন্দারা। প্রভাবশালী কয়েকটি গোয়েন্দাসংস্থা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ১১টি ক্যাটাগরিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য সংগ্রহে মাঠে নেমেছ বলে জানায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বানকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহনগর বিএনপি সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। তবে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম কর্মসূচি শুরুর দিকে তেমন কোন বাঁধার অভিযোগ না পাওয়া গেলেও সময় যতই যাচ্ছে ততই দলীয় কর্মসূচীতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের বাঁধা দেয়ার অভিযোগ করছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচীতে বাঁধা দেয়া হয়েছে। এতকিছুর পরও বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচীতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে তাদের টার্গেটের অর্ধেকের কাছাকাছি সদস্য সংগ্রহ হয়ে গেছে। বাকী যে সময় আছে তার মধ্যে সম্পূর্ণ টার্গেট পূরণ হয়ে যাবে বলে দলের নেতারা আশা প্রকাশ করেন। গত ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় পুলিশ। মহানগরর মিজমিজিতে এলাকায় এদিন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. তৈমুর আলম খন্দকার।

সূত্রে আরো জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান ও নবায়ন কার্যক্রমকে নজরদারিতে রেখেছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ১১টি ক্যাটাগরিতে দলটির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের তথ্য দ্রুত জমা দিতে নির্দেশনা দিয়েছে। বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, সদস্য সংগ্রহের প্রত্যেকটি আয়োজনের স্থান, দিন-কাল, অভিযানে উপস্থিত হওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম ও পরিচয়, স্থানীয়ভাবে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের নেতৃত্বে কারা আছেন, নবায়নকৃত নতুন সদস্যদের আনুমানিক সংখ্যা, অভিযান অনুষ্ঠানে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা, বিএনপির সদস্য সংগ্রহে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সাড়া ও প্রতিক্রিয়া কেমন, এই কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেউ বা উল্লেখযোগ্য প্রভাবশালী ব্যক্তি সদস্য হয়ে থাকলে তার পরিচয়, অভিযানের পেছনে কোনও এনজিও বা সংস্থা ভূমিকা রাখছে কিনা এসব বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি এড সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপির নেতাদের মধ্যে অনৈক্য রয়েছে কিন্তু কর্মীদের মধ্যে অনৈক্য নাই। কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। তারা দলের সদস্য সংগ্রহে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। বিএনপির সদস্য সংগহ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যপক সাড়া পাচ্ছে। এখন আমাদের নেতাদের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক‌্যবদ্ধ হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত শক্তশালী করতে হবে।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, কোন্দল গত কারনে বিএনপির নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ ভাবে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি চালাচ্ছে। সকল ভেদাভেদ ভুলে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি অভিযান চালালে আরো ভালভাবে জনগনের মাঝে সাড়া পেত। কর্মীরা সব সময় বিএনপির সকল কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ তাই নেতাদের কোন্দল মিটিয়ে দেশমাতা বেগম থালদা জিয়ার ও তারুণ্যে অহংকার তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করতে হবে।

Leave A Reply