ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের শ্লেটার দাতা সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ লিটন

0
বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম,
মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের শেল্টার দাতা হিসাবে এবার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ লিটনের বিরুদ্ধে। ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া যুবক ফতুল্লা মডেল থানায়  একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন যার নং ৮৯২। ভুক্তভোগী যুবক শহীদুল ইসলাম জানায়, সে কাতার -বাংলাদেশ চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে চাকুরী করেন, ফতুল্লায় দাপা ইদ্রাকপুরের পাইলট স্কুল এলাকায় তার আত্নীয় স্বজনেরা ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করার কারনে এ এলাকায় সে বিভিন্ন সময়ে বেড়াতে আসেন। গত ১২ /৩/ বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে সে ফতুল্লা পাইলট স্কুলের পশ্চিম দিকের রাস্তা দিয়ে হেটে বাজারে যাওয়ার পথে কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন স্হানীয় আঃলীগের ক্লাবের সামনে থেকে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটনের ভাগিনা বাবু, মাসুদ রানা সহ ১৫/২০ জন যুবক তাকে ডেকে মাঠের ভিতরে নিয়ে যায়। বাদীর অভিযোগ এসময় তার হাতে থাকে স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ মোবাইল সেট টি দেখতে চায় ভাগিনা বাবু ও মাসুদ রানা তখন সে মোবাইল দিতে রাজী না হলে ভাগিনা বাবু ও মাসুদ রানা সহ উপস্থিত অন্যরা বলে তুই এখানে ঘুরাফেরা করিস কেন তোরে তল্লাশী করা হবে বলিয়া মোবাইল সেটটি জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার পরে ভাগিনা বাবুর নির্দেশে মাসুদ রানা, বেলু, রুবেল, আলামিন সহ অন্যরা জোর করিয়া তার মানিব্যাগ পকেট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সেখানে থাকা আনুমানিক ৭ হাজার টাকার তারা ছিনিয়ে নেয় এবং অতি কৌশলে তার মানিব্যাগের ভিতর ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিঁয়ে দিয়ে ছিনতাই কারীরা চিৎকার করে বলতে থাকে শালা তোর কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে । শহীদুল আরো জানায়, এসময় আমি তাদের বলি ভাই এগুলি তো আপনারা ঢুকিঁয়ে দিয়েছেন আমার মোবাইল ফোন আর টাকা ফেরত দেন এটা কিসের নাটক করতেছেন এ কথা বলার পরে ভাগিনা বাবু, মাসুদ রানা, বেলু, মোয়াজ্জেম বাবু, আলামিন, রুবেল সহ আরো কয়েকজন আমাকে গালাগালি ও মারধর করে। এক পর্যায়ে ভাগিনা বাবু বলে নেতারা (লিটন) কে ফোন দিয়ে পুলিশ আনতে বলতো শালারে পুলিশে দিয়ে দিবো মোবাইল আর টাকা ফেরত চায়, সুত্রে আরো জানায়, এর পরে মাসুদ রানা ফোন দেয় নেতা লিটন কে পরে নেতা লিটন বলে ওরে আমার দোকানে নিয়ে আয়।  এসময় ভাগিনা বাবু, মাসুদ রানা সহ তার লোকজন আমাকে জোড় করিয়া রেল ষ্টেশন রোড সংলগ্ন বালুর মাঠের সাথে থাকা লিটনের দোকানে নিয়ে যায়, তখন আমি লিটন ভাইকে বলি ভাই ওরা আমার স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ মোবাইল যার আনুমানিক দাম ৭৬ হাজার টাকা এবং মানিব্যাগে থাকা ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে মারধর করে জোড় করিয়া মানিব্যাগে ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে দিয়েছে। শহীদুল জানায় এসময় নেতা লিটন আমাকে গালাগালি করতে থাকে আর মারধর করিয়া বলে কিসের মোবাইল কিসের টাকা তোরে এখন পুলিশে দেবো থানার ওসি মঞ্জু ভাই কে ফোন দিয়েছি পুলিশ আসিতেছে  বলে উল্টো হুমকি দেয়। তিনি আরো জানায় কিছুক্ষন পরে পুলিশের একটি টীম লিটনের দোকানে আসলে তাকে বলি আমার দুটি মোবাইল সেট আর মানিব্যাগ ওরা জোর করিয়া ছিনিয়ে নিয়েছে আর আমি মাদক ব্যবসা করি না আমি কাতার-বাংলাদেশ চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে চাকুরী করি স্যার । তখন পুলিশ অফিসার লিটন কে বলে ওনার এগুলি দিন সে সময় ভাগিনা বাবু একটি নরমাল সেট আমাকে দিয়ে বলে এই নেয় মোবাইল আর মাসুদ রানা মানিব্যাগ দিয়ে বলে মানি ব্যাগ নেয় এসময় আমি বলি আমার স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ ফোনটি দেন আর মানিব্যাগে থাকা আনুমানিক ৭ হাজার টাকা ছিলো সেগুলি দেন কিন্তু ওরা সেগুলি ফেরত দেয়নি এসময় লিটন পুলিশ কে বলে একটু বাইরে আসুন । পরে পুলিশ অফিসার দোকানের বাইরে এসে লিটনের সাথে কিছুক্ষন কথা বলে আসার পরে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে আসেন এসময় আমি তাকে সবকিছু খুলে বললে সে বলে ওসি স্যার কে বলিয়েন ভাই। আমি বুঝতে পেরেছি কি করবো বলেন। লিটনের ভাই বন্দুক মাসুম সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসা হওয়ার পরেও কেউ তাকে ধরে না কারন লিটন প্রভাবশালী নেতা ওনার অনেক ক্ষমতা । নিজের ভাই বন্দুক মাসুমের মাদকের আধিপত্য টিকিয়ে রেখেছে এ-ই লিটন এগুলি পুলিশ,  সাংবাদিক, এলাকাবাসী সহ আঃলীগের নেতা সবাই জানে।
শহীদুল আরো জানায়, এ পর্যায়ে থানার ওসি মঞ্জুর কাদের সাহেব কে সব কিছু খুলে বললে আর আমার পরিচয় নিশ্চিত করার পরে সে লিটন কে বলে এ-ই লিটন তোমার ভাগিনা বাবু কিন্তু নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে এসব কি, তুমি ছেলেটার মোবাইল টাকা ফেরত দিয়ে দেবো এবং তখন ওসির কথা মতো আমি ২ দিন পরে লিটনের দোকানে গিয়ে মোবাইল ও টাকা ফেরত চাইলে লিটন উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং আমাকে আবারো হুমকি দিয়ে বলে কু……র বাচ্চা মোবাইল, টাকা ফেরত চাস তোরে এবার ২ শত ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেবো তাড়াতাড়ি এখন থেকে বের হয় বলে তাড়িয়ে দেওয়া হলে ওই দিন বিকেলে এঘটনায় থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করি যার নং ৮৯২। জিডির তদন্তকারী  অফিসার এসআই মঈনূল হোসেন মোবাইল ও টাকা উদ্ধারের বিষয়ে লিটন কে ফোন দিয়ে কথা বললে ওনাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে সেটা বলতে পারিনা তিনি (এসআই) আমাকে বললো ঠিক আছে আমি দেখছি কি করা যায় দরকার হলে আপনাকে ডাকবো বলে রহস্যজনক আচরন করছে সে এখন পর্যন্ত। এবিষয়ে জানতে এসআই মঈনূল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে সে বলে ভাই একটু ব্যস্ত আছি পরে এ বিষয়ে কথা বলবো। এদিকে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটনের বক্তব্য জানতে ০১৭১৫৭৮৪৬৫৫ ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তার বাসায়, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি । এলাকা বাসীর অভিযোগ লিটনের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এক যুগ ধরে বন্দুক মাসুম মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। থানা পুলিশের কোন টীম তাকে আটক করে রাখতে পারেনি, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ মাত্র ২ বার বন্দুক মাসুমের মাদকের আস্তানায় অভিযান চালালে পুলিশ ৩ মণ গাজাঁ উদ্ধার করে। মামলা দায়ের করলেও ওই সময়
লিটনের সাথে পুলিশ দেন দরবার করে (৪২) ৫-২০১৩ মাদক মামলায় বন্দুক মাসুমকে বাদ দিয়ে চুড়ান্ত প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া গাজাঁ পরিত্যক্ত দেখায়। এদিকে র্যাব-১১ বন্দুক মাসুমের বাসায় অভিযান চালিয়ে লুস ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহ একবার বন্দুক মাসুমকে আটক করে মামলা দেয় যার নং (৭৭) ১১-২০১৩, এ মামলায় এক সপ্তাহ কারাভোগ করে লিটনের রাজনৈতিক প্রভাব ও কালো টাকার জোরে বন্দুক মাসুম জামিনে বের হয়ে আবারো মাদক ব্যবসা সক্রিয় হয়ে উঠে বলে জানা গেছে। সুত্রে আরো জানা গেছে প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে বন্দুক মাসুম  মাদক পাচার করছে এ সংবাদে  ডিবি পুলিশের একটি  টীম অভিযান চালায় দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায়, এসময় চর্তুর মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক মাসুম কৌশলে পালিয়ে গেলেও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ শত বোতল ফেনসিডিল সহ বন্দুক মাসুমের সহযোগী জলিলকে আটক করে, এঘটনায় জলিল ও বন্দুক মাসুমকে আসামী করে ডিবি পুলিশ মাদক মামলা দায়ের করেন। যার নং- (২৭)২-২০১৮ । এলাকা বাসীর অভিযোগ এসপি হারুন এ জেলায় আসার পরে লিটনের নির্দেশে বন্দুক মাসুম মাদক ব্যবসায় কিছুটা পর্দার আড়ালে চলে গিয়ে এখন বন্দুক মাসুমের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হিসাবে প্রকাশ্যে সবকিছু দেখভার করে লিটনের আপন ভাগিনা বাবু, যুবলীগ ক্যাডার আমান, মোয়াজ্জেম বাবু, বোদেং স্বপন সহ আরো কয়েক জন উঠতি বয়সী যুবক। এলাকা বাসীর অভিযোগ  লিটনের দলীয় প্রভাব আর কালো টাকার সুবিধা ভোগীদের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় নাম ধারী সাংবাদিক খোকন সহ ফতুল্লার কয়েকজন সাংবাদিক নেতা. পুলিশ কর্মকর্তা, সোর্স জাফর, সোর্স সোহাগ, সোর্স পান্না, স্থানীয় কয়েকজন গান্যমান্য ব্যক্তি সহ থানা আওয়ামী লীগের দুইজন প্রভাবশালী নেতা । সুত্রের দাবী মাদক, ছিনতাই, ভূমিদস্যুতা সহ লিটনের সকল অপকর্মে উল্লেখিত ব্যক্তিরা লিটনের পক্ষে সাফাই গেয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও মিডিয়া থেকে রক্ষা করে আর লিটন নিজেকে একজন এমপির স্নেহের পাত্র হিসেবে সর্বত্র জাহির করে আধিপত্য বিরাজ করে আসছে। চলমান………….
0 Shares
শেয়ার করুন.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.