কার ইশারায় সিদ্ধিরগঞ্জে চলছে চাঁদাবাজি

0

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিটি সেক্টরে চাঁদাবাজির এক একটি খাত যেন টেন্ডার দেয়ার মত। অবাক হওয়ার মত এক চাঁদাবাজ উপর মহলের অবগতির বাইরে আরেক চাঁদাবাজের কাজে নাক গলায় না। প্রতিটি সেক্টরে রয়েছেন একজন করে কর্তা চাঁদাবাজ। যিনি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা থেকে চাঁদা আদায় করে তালিকা মোতাবেক সব জায়গাতে চাঁদার ভাগ পৌছে দিয়ে থাকেন। পুরো বিষয়টি তদারকি করে থাকেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের বড় পদধারী নেতাগন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন এ ভাগ বাটোয়ারার অনুমোদন দিয়ে থাকেন। যার ফলে সকল চাঁদাবাজদের রয়েছে অসংবিধানিক বৈধতা। পুলিশ বরাবরই বলে থাকে এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু ব্যবস্থাটা কার নেয়া হবে যে অভিযুক্ত তার নাকি যে অভিযোগ করবে তার। এনিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সুশীল সমাজ বেশ হাস্য রসে বলে থাকেন অভিযোগ তো আসে না পুলিশও কিছু করেনা। যদি আসে অভিযোগ তাকে আগে ধর। মাদক মামলায় ভরে দিয়ে কর তাকে কুপোকাত। সিদ্ধিরগঞ্জের চাঁদাবাজির সেক্টরগুলো হলো পরিবহন, ভূমি দখল ও বহাল, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সিএমবি), অবৈধ ভাড়ায় চালিত ব্যক্তিগত গাড়ি (রেন্ট এ কার), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সিদ্ধিরগঞ্জ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, আদমজী রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল (ইপিজেড), সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় থাকা গার্মেন্টস, ফুটপাত দোকান, শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ড, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বালু মহাল, খাদ্য গুদাম, পদ্মা ডিপো, মেঘনা ডিপোসহ অন্তত ৫০টি পয়েন্টে। প্রতিটি পয়েন্টে যিনি দায়িত্বে রয়েছেন তিনি ক্ষমতাসীন দলের কোন কোন পদে রয়েছেন। এমনকি কেউ কেউ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধি (কাউন্সিলর)। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত কিংবা জেলা পুলিশের নাকের ডগায় বসেই তার আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। এদের কেউ কেউ নারায়ণগঞ্জের ৭ হত্যাকান্ডের পর পর দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিল। মামলার রায়ের পর একে একে এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করে। ফিরে এসেই তারা সেই আগের চেহারায় পদার্পন করেছে। এবার তাদের সহযোগী র‌্যাব নয় খোদ পুলিশ। কখনও কখনও অসহায় পুলিশ তাদের আগে পাছে বিভিন্ন কটুক্তি করতেও শোনা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা এতটাই শক্তিশালী যে তাদের সামনে পুলিশের কোন কথা চলে না। তাহলে অভিযোগ চলে যায় ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে। থানা তাদের ঘরের সম্পদ যখন যেভাবে খুশি তারা ব্যবহার করে চলেছে। যাকে ইচ্ছে তাকে মামলা দিয়ে নিরপরাধ হলেও সায়েস্তা করাচ্ছে আমাদের দিয়ে। কিন্তু তাদের কুকর্মের সমস্ত দায় নিতে হচ্ছে পুলিশের। তবে তিনি স্বীকার করেন কিছু কিছু অসাধূ পুলিশ কর্মকর্তারাও তাদের সাথে জড়িত রয়েছে। যার কারনে সেই সকল পুলিশ কর্মকর্তাগন অল্প দিনে গাড়ি বাড়ি আর প্রতিপত্তির মালিক বনে গেছে। এদিকে স্থানীয় সূত্র বলছে, সবকিছুর মূলে রয়েছে একজন। যার ইশারা সব কিছু পানির মত সহজ হয়ে যায়। তার আশির্বাদ না থাকলে আওয়ামী লীগ করেও ঘরে ঘুমাতে পারে না। প্রশাসন চাঁদাবাজদের কাছ থেকে সুবিধা না পেলে চোখে চশমা কেন পরে আছে কেন? সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘাপটি মেরে মেরে একাধিক চাঁদাবাজ গ্রুপ সক্রিয় হয়ে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে। দিন দিন তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা ও চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ বলেন, পুলিশ প্রশাসন চাঁদাবাজদের হাতের মুঠোয় থাকে। সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলেও দুর্নীতিবাজ, স্বেচ্ছাচারী, অনিয়মকারি জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ ও প্রশাসনের বানিজ্য চলেই যাচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, চাঁদা আদায়ের কোনো অভিযোগ তার কাছে নেই। সুনির্দিষ্ট কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply